আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজকে দলে ভেড়াতে বেশ মরিয়া ছিল বার্সেলোনা। অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের একাধিক প্রত্যাখ্যানের পরও আলভারেজের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যায় কাতালান ক্লাবটি। তবে তাকে পাওয়া না গেলে বিকল্প হিসেবে বার্সেলোনার তালিকায় ছিলেন আরেক আর্জেন্টাইন তারকা লাউতারো মার্টিনেজ। শেষ পর্যন্ত বার্সার আগ্রহ থাকলেও ইন্টার মিলানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
আলভারেজকে দলে পাওয়ার সম্ভাবনা কমে গেলে আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে লাউতারোকে বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করেছিল বার্সেলোনা। যদিও ইন্টার মিলানের দাবি ছিল, লাউতারোকে নিয়ে তাদের কাছে বার্সেলোনার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসেনি। একই সঙ্গে নিজেদের অধিনায়ককে ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনার দরজাও খোলা রাখেনি ইতালিয়ান ক্লাবটি।
তবে ইতালিতে আয়োজিত ‘গ্রান গালা দেল কালচিও’ অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন লাউতারো। কাতালান সংবাদমাধ্যম ‘স্পোর্ত’-এর বরাত দিয়ে স্কাই ইতালিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন, বার্সেলোনার আগ্রহের খবর সত্য ছিল।
লাউতারো বলেন, ‘এ ধরনের প্রস্তাব পাওয়া সবসময়ই গর্বের বিষয়। কারণ ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকার জন্য আমি প্রতিনিয়ত কাজ করি। প্রতিবেদনগুলো সত্য ছিল।’
বার্সেলোনার আগ্রহের বিষয়টি স্বীকার করলেও ইন্টার ছাড়ার কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। ক্লাবটির অধিনায়ক জানিয়েছেন, ইন্টারই তার প্রথম পছন্দ এবং সেই অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
লাউতারোর ভাষায়, ‘আমি সবসময়ই বলেছি, আমি ইন্টারে থাকতে চাই। আমার সতীর্থ ও সমর্থকদের সঙ্গে থাকতে চাই। যতক্ষণ তারা আমাকে চায়, আমি এই ক্লাবেই থাকব।’
ইন্টারের সঙ্গে লাউতারোর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত। ভবিষ্যতে দলবদলের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে না দিলেও ক্লাবটির প্রতি নিজের আনুগত্যের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন তিনি।
লাউতারো বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, ফুটবল বিশ্বে যখন আপনি আর প্রয়োজনীয় থাকেন না, তখন আপনাকে চলে যেতে বলা হয়। ইন্টারের হয়ে খেলা আমার জন্য গর্বের বিষয় এবং আমি এখানে সুখী। আমি থাকতে চাই, প্রতিদিন নিজেকে আরও উন্নত করতে চাই এবং ইন্টারের হয়ে বড় শিরোপার জন্য লড়তে চাই।’
এদিকে, আলভারেজকে দলে ভেড়াতে ব্যর্থ হওয়ার পর বার্সেলোনা আক্রমণভাগে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে দলে নিয়েছে। ফলে লাউতারোকে নিয়ে কাতালান ক্লাবটির আগ্রহ শেষ পর্যন্ত আর বাস্তবে রূপ নেয়নি।
আমার বাঙলা/ রাব্বি