আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে চেলসি থেকে দলে নিতে রাজি হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। বিশ্বকাপজয়ী এই তারকার জন্য ইংলিশ ক্লাবটি ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড খরচ করতে যাচ্ছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ২ হাজার ৭৪ কোটি টাকারও বেশি। এই দলবদলের মাধ্যমে ব্রিটিশ ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফির রেকর্ড স্পর্শ করতে যাচ্ছে সিটি।
এর আগে ২০২৩ সালে ১০ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডে বেনফিকা থেকে চেলসিতে যোগ দিয়েছিলেন এনজো। সে সময় তার ট্রান্সফার ফি ব্রিটিশ ফুটবলের রেকর্ড গড়েছিল। এবার তার সম্ভাব্য দলবদলের অঙ্কটি গত গ্রীষ্মে আলেকসান্দার ইসাককে লিভারপুলে নিতে খরচ করা ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের সমান হবে।
মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, গত ২৪ ঘণ্টা ধরে দুই ক্লাবের মধ্যে এনজোকে নিয়ে আলোচনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত তারা চুক্তিতে পৌঁছেছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষই বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। প্রিমিয়ার লিগের গ্রীষ্মকালীন দলবদলের নির্ধারিত সময়সীমাও মঙ্গলবার রাতেই শেষ হওয়ার কথা।
বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শিগগিরই মেডিকেল পরীক্ষা দেবেন এনজো। এরপর ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন তিনি। ব্যক্তিগত শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো জটিলতা নেই বলেও জানা গেছে।
চেলসিতে এনজো ফার্নান্দেজকে কোচ এনজো মারেস্কার অধীনে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২৫ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারকে এবার আবারও নিজের দলে পেতে আগ্রহী মারেস্কা। পেপ গার্দিওলার বিদায়ের পর বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটির প্রধান কোচের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।
চলতি গ্রীষ্মে সিটির মিডফিল্ডে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ইতিহাদ স্টেডিয়াম ছেড়েছেন টিজানি রাইন্ডার্স, রদ্রি, নিকো গঞ্জালেজ ও বার্নার্দো সিলভা। ফলে মাঝমাঠে শক্তি বাড়াতে এনজোকে দলে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ক্লাবটি।
চেলসির সর্বশেষ দুটি ম্যাচে ছিলেন না এনজো। কারাবাও কাপে লুটন টাউনের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে স্কোয়াডে ছিলেন না তিনি। এরপর প্রিমিয়ার লিগে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নের বিপক্ষে ৪-৩ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচেও খেলেননি। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের দাবি, ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে নিজেই স্কোয়াডের বাইরে থাকার অনুরোধ করেছিলেন এনজো।
এবারের দলবদলে দ্বিতীয়বারের মতো নিজেদের ট্রান্সফার ফির রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি। এর আগে নটিংহ্যাম ফরেস্ট থেকে ১১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে ইংলিশ মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে দলে নেয় তারা।
চলতি দলবদলে সিটি ছেড়েছেন চার মিডফিল্ডার। টিজানি রাইন্ডার্স ৫ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডে সৌদি ক্লাব আল কাদসিয়ায়, রদ্রি ৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে বার্সেলোনায় এবং নিকো গঞ্জালেজ ৫ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডে নিউক্যাসল ইউনাইটেডে যোগ দিয়েছেন। আর বার্নার্দো সিলভা ফ্রি এজেন্ট হিসেবে পাড়ি জমিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদে।
এ ছাড়া ৭ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে উইঙ্গার সাভিনিয়োকেও টটেনহ্যাম হটস্পারের কাছে বিক্রি করেছে সিটি। ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশের ধারে খেলার চুক্তি স্থায়ী হলে আগামী বছরের গ্রীষ্মে টটেনহ্যামের কাছ থেকে আরও ৬ কোটি পাউন্ড পেতে পারে ক্লাবটি।
শুধু খেলোয়াড় বিক্রি নয়, দল শক্তিশালী করতেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছে ম্যানচেস্টার সিটি। ৮ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে ১৮ বছর বয়সী মরোক্কান মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দি এবং ৩ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ডে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার অ্যালান এলিয়াসকে দলে নিয়েছে তারা। এর পাশাপাশি তুলনামূলক কম খরচে উইঙ্গার জেরেমি মঙ্গা ও গোলরক্ষক হেরোনিমো রুলিকেও দলে ভিড়িয়েছে সিটি।
এভারটনের সেনেগালিজ উইঙ্গার ইলিমান এনদিয়ায়ে যোগ দিলে সিটির এবারের দলবদল ব্যয় আরও বাড়তে পারে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, তাকে নিয়ে দুই ক্লাবের মধ্যে ইতোমধ্যে চুক্তি হয়েছে। সব মিলিয়ে এই দলবদলে তার জন্য সর্বোচ্চ ৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড খরচ হতে পারে ম্যানচেস্টার সিটির।
আমার বাঙলা/ রাব্বি