স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন দলীয় প্রভাবমুক্ত ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে চায় বিএনপি। জাতীয় নির্বাচনের মতো উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। এজন্য স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়, সৎ ও যোগ্য নেতাদের প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছে দলটি।
দলীয় সূত্র জানায়, এলাকায় জনপ্রিয়তার ভিত্তিতেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এর বাইরে কাউকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না। সম্প্রতি বিএনপি ও এর সহযোগী তিন সংগঠনের এক মতবিনিময় সভায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাদের জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুতই অনুষ্ঠিত হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এসব নির্বাচনে নিজেদের যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতেই জয়ী হতে হবে, দল থেকে কোনো ধরনের প্রভাব খাটানো হবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নবঞ্চিত অনেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন। তবে দল এবার তৃণমূলের জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে। এর আগে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনসহ সব স্তরের নির্বাচন ধাপে ধাপে সম্পন্ন করতে সাধারণত ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগে।
নির্বাচন কমিশনও আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে বলে জানা গেছে। দলীয় একটি বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিক থেকেই ধাপে ধাপে নির্বাচন শুরু হতে পারে।
এদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে এলাকায় পোস্টার, ব্যানার, গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশ শুরু করেছেন। যদিও এখনো নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ফলাফল বিরোধীদের হাতে চলে গেলে তা সরকারের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে অস্থিরতা বাড়লে সরকারের জনপ্রিয়তায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে আগে দলীয় কোন্দল ও বিভেদ দূর করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
দলের নেতাদের মতে, অতীতে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির কিছু নেতা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বেশ কিছু আসনে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটানোর চেষ্টা চলছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে যারা দীর্ঘদিন কাজ করেছেন এবং যাদের এলাকায় জনপ্রিয়তা রয়েছে, দল তাদেরই মূল্যায়ন করবে। তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নিয়ে কিছু অসন্তোষ থাকলেও রাজপথে সক্রিয় ও সংগ্রামী নেত্রীদেরই অধিকাংশ ক্ষেত্রে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
সাজু/নিএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);