বহু কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি মঙ্গলবার বরিশালের জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নিয়ে হাজির হলেও কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকেই মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ করে দুপুর দেড়টার পরেই দক্ষিণ-পশ্চিম বায়ুর সাথে প্রথমে বৃষ্টিপাত শুরু হলেও দুপুর ২টা থেকে তা বজ্র-বৃষ্টির রূপ নেয়। বিকট শব্দের বজ্রপাতের সাথে প্রবল বর্ষণে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত করে দুপুর ৩টা পর্যন্ত সোয়া ঘণ্টায় বরিশাল মহানগরীতে ৩৫.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পরে বিকেল সোয়া ৪টা পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত ছিল।
প্রবল এ বজ্র-বৃষ্টির সাথে বরিশাল মহানগরী এবং ঝালকাঠী জেলা সদর সহ দক্ষিণাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায়ই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বিকেল ৪ টার পরে কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনর্বহাল হলেও, খোদ বরিশাল মহানগরী সহ এ অঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় বিকেল সোয়া ৪টা পর্যন্ত অন্ধকারে ছিল।
মঙ্গলবার দুপুরের এ প্রবল বজ্র-বৃষ্টির ফলে বরিশাল মহানগরীর বেশিরভাগ রাস্তাঘাটই অনেকটা জনমানব শূন্য হয়ে পরে। প্রবল বর্ষণে যথারীতি নগরীর বেশিরভাগ রাস্তায়ই পানি জমে গিয়ে যানচলাচল বিঘিন্ত হয়। সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোও ফাঁকা হয়ে যায়। এমনকি যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল সেখোনেও বিপুলসংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী আটকা পরে।
তবে বহু কাঙ্ক্ষিত এ বর্ষণ দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির জন্য যথেষ্ট ইতিবাচক ফল থেকে বলে মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদগন জানিয়েছেন। টানা ১২৭ দিন পরে ৯ মার্চ বরিশালে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিপাতের পরে আরো ৩দিন বৃষ্টি হলেও গত মাসে বরিশালে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ছিল ৪৯%। এমনকি আবহাওয়া অফিস চলতি মাসে বরিশালে ১২০-১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস দিলেও ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ৩০ মিলি বৃষ্টির পরে টানা ১৩দিন কোন তার দেখা মেলেনি। ফলে জনস্বাস্থ্যের সাথে কৃষি ব্যবস্থায়ও বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
ডিজেলের সরবরাহ নিয়ে নানা ফন্দি ফিকিরের মাঝে বৃষ্টিপাতের ব্যপক ঘাটতি দক্ষিণাঞ্চলের ৪ লাখ হেক্টরের বোরো ধান নিয়ে কৃষকদের মারাত্মক দুশ্চিন্তায় রেখেছে। বরিশাল অঞ্চলের বোরো ধানের জমিতে সেচকাজে চলমান প্রায় ৮৭ হাজার পাওয়ার পাম্পের প্রায় ৭৪ হাজারই ডিজেল চালিত। এসব পাম্পে গড়ে দৈনিক ৫ লক্ষাধিক লিটার ডিজেল প্রয়োজন হলেও সরবরাহ নির্বিঘ্ন নয়। এরই মাঝে মঙ্গলবারের এ বর্ষণ কৃষি সেচ ব্যবস্থায় আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-ডিএই’র মতে, মাঠে থাকা প্রায় ৪ লাখ হেক্টরের বোরো ধান সঠিক সেচ পেলে এবার ১৮ লাখ টন বোরো চাল কৃষকের ঘরে উঠবে। তবে এজন্য পুরো মে মাস যুড়ে জমিতে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে দেড় থেকে ২ ইঞ্চি পরিমাণ পানি রাখতে হবে। ফলে সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কোনো বিকল্প নেই। সে ক্ষেত্রে মঙ্গলবারের এ ভারী বর্ষণ অন্তত এক সপ্তাহ জুড়ে জমিতে সেচের কোনো প্রয়োজন হবেনা।
পাশাপাশি এ বর্ষণ চলমান হাম আতঙ্ককেও কিছুটা হলেও প্রশমিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ।
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);