বাবাকে যখন কুপিয়ে হত্যা করা হলো, ভেবেছিলাম দ্রুতই বিচার পাব। কিন্তু ২৯টি মাস কেটে গেল, খুনিরা আজও ধরা পড়ল না। আমরা কি তবে এ দেশে বিচার পাব না? কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৌসুমী আক্তার। পাশেই বসা নিহতের স্ত্রী লাইলী বেগমের চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছিল নোনা জল।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে শেরপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এভাবেই দীর্ঘ আড়াই বছরের বিচারহীনতার যাতনা তুলে ধরেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়ন বিএনপি কর্মী আব্দুল মতিনের পরিবার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিহতের নাতি মোহায়মিনুল ইসলাম ও মহিবুল ইসলামসহ স্বজনরা। লিখিত বক্তব্যে মৌসুমী আক্তার অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর রাতে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তার বাবা আব্দুল মতিনকে। পরদিন সকালে ঝিনাইগাড়ী পুকুরপাড় সংলগ্ন ধানক্ষেত থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরিবারের দাবি, সক্রিয় বিএনপি কর্মী হওয়ায় তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তাকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছিল। মৌসুমী জানান, হত্যার মাত্র আট দিন আগে তৎকালীন প্রশাসনের দায়ের করা একটি ‘গায়েবি’ মামলায় তার বাবাকে ৬৪ নম্বর আসামি করা হয়েছিল। পরিবারের প্রশ্ন রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আজ তাদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে? সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
পরিবারের দাবি, খুনিদের ধরার বদলে নিহতের ছেলে মিলন রহমানকে বারবার থানায় ডেকে নিয়ে মানসিক হয়রানি করা হয়েছে। এমনকি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে ‘মাদক সংক্রান্ত বিরোধ’ বলে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন মৌসুমী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আসল অপরাধীদের আড়াল করতেই পুলিশ ঘটনাটি অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করেছে। বিগত সরকারের আমলে নির্যাতিত এই পরিবারটি এখন বর্তমান সরকারের প্রতি আশার আলো দেখছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মৌসুমী আক্তার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি নির্যাতিত মানুষের শেষ ভরসা। আপনার দলের নিবেদিত কর্মী হিসেবে আমার বাবা জুলুমের শিকার হয়েছেন। আপনি আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী, আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল। দয়া করে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিন। মামলার বর্তমান অবস্থা নিয়ে ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)-এর মঞ্জুরুল আলম জানান, এটি একটি ‘ক্লু-লেজ’ মামলা। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আলামত বা সরাসরি সাক্ষী না পাওয়ায় তদন্তে কিছুটা ধীরগতি ছিল। তবে রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে।
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);