চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে একটি ভোট অনুষ্ঠিত হলেও শেষ পর্যন্ত তা পাস হয়নি। তবে মানবাধিকারকর্মীরা এই ফলাফলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন, যা ইসরায়েলের নীতির প্রতি বাড়তে থাকা অসন্তোষকে প্রকাশ করে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুধবারের ভোটে ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের বেশিরভাগই প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নেন। প্রস্তাবটি ছিল ইসরায়েলের কাছে সামরিক বুলডোজার বিক্রি বন্ধ করা নিয়ে। কিন্তু সাতজন ডেমোক্র্যাট রিপাবলিকানদের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় বিলটি ৪০-৫৯ ভোটে বাতিল হয়ে যায়। তবুও অধিকারকর্মীরা এটিকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করছেন।
শান্তিবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস কমিটি অন ন্যাশনাল লেজিসলেশনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক আইনপ্রণয়ন পরিচালক হাসান এল-তাইয়্যাব বলেন, প্রস্তাবটি পাস না হলেও এই ভোট প্রমাণ করেছে যে, সিনেটের অধিকাংশ ডেমোক্র্যাট এখন ইসরায়েলের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থনের বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন, যা সাধারণ আমেরিকানদের মতামতের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, এটি শুধু অস্ত্র বিক্রির প্রশ্ন নয়; বরং বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাতের বিরুদ্ধেও একটি অবস্থান।
এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন প্রগতিশীল সিনেটর বেরনি স্যান্ডার্স। ইরানের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি আসে। অভিযোগ রয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই যৌথভাবে সামরিক অভিযান শুরু করেছেন।
মানবাধিকারকর্মীদের দাবি, ইসরায়েল লেবানন ও গাজায় শহর ধ্বংসে বুলডোজার ব্যবহার করছে, যাকে তারা ‘জাতিগত নির্মূল’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। একই দিনে আরেকটি ভোটে ৩৬ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ইসরায়েলের কাছে ১,০০০ পাউন্ড বোমা সরবরাহ বন্ধের পক্ষে ভোট দেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছর একই ধরনের প্রস্তাবে ২৭টি এবং ২০২৪ সালে ১৮টি সমর্থন ভোট পড়েছিল—যা থেকে বোঝা যায়, সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় চলমান যুদ্ধ, দক্ষিণ লেবাননের ধ্বংসযজ্ঞ এবং ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধিই এ পরিবর্তনের প্রধান কারণ।
স্যান্ডার্স বলেন, আমেরিকানরা চান তাদের করের অর্থ দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় হোক, মধ্যপ্রাচ্যে নিরীহ নারী-শিশুর প্রাণহানিতে নয়। এক জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার প্রায় ৮০ শতাংশ, আর ৫০ বছরের নিচে তরুণদের মধ্যে তা প্রায় ৭০ শতাংশ।
জুইশ ভয়েস ফর পিস অ্যাকশনের রাজনৈতিক পরিচালক বেথ মিলার বলেন, মার্কিন আইনপ্রণেতাদের ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়ার পক্ষে ভোট দেওয়া ‘লজ্জাজনক’। তিনি বলেন, গাজায় গণহত্যা, লেবাননে বোমাবর্ষণ এবং ইরানে চলমান সহিংসতার প্রেক্ষাপটে প্রতিটি সিনেটরের উচিত ছিল ইসরায়েলের কাছে সব ধরনের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধে ভোট দেওয়া।
তিনি বলেন, নিঃশর্ত সহায়তার বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা বিরোধিতা একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ৪০টি সমর্থন ভোট ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের রাজনৈতিক ভিত্তিতে বড় ফাটল’ তৈরি করেছে। গত রাতটি ছিল একটি টার্নিং পয়েন্ট।
সূত্র: আলজাজিরা
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);