দিন যত যাচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টগুলো ততই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের মনে ইরানের ওপর তার বিনা উস্কানির আক্রমণ সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
এক সময় ট্রাম্প ইরানিদের সতর্ক করেছিলেন, তাদের সরকার ‘তাদের নিজেদের দখলে নেওয়ার জন্য’। কিন্তু এখন একই মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুমকি দিচ্ছেন, ইরানকে ‘পাথর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার’। এই পরিবর্তন ইরানের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অঞ্চলে তার প্রভাব বোঝায়।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব
হরমুজ প্রণালিতে ট্রাম্প আগে হাজার হাজার মার্কিন মেরিন সেনা পাঠিয়েছিলেন, লক্ষ্য ছিল প্রণালিটি জোর করে খোলা। কিন্তু বর্তমানে ইরানই ঠিক করছে কোন জাহাজ যাবে, আর কোনটা যাবে না। প্রতিটি জাহাজকে এখন প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল দিতে হচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনাপ্রধান এয়াল জামির এক মাস আগে দাবি করেছিলেন, ইরানের ৮০ শতাংশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। তবে ১৩,০০০-এর বেশি বিমান হামলার পরও দেখা যাচ্ছে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
স্থিতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা
ইরাক, সিরিয়া বা লিবিয়ার মতো দেশগুলোর পরিস্থিতি যেখানে নেতার মৃত্যু বা পদত্যাগের পর সরকার ভেঙে পড়ে, সেখানে ইরানের কমান্ড ব্যবস্থা অটুট আছে। মোসাদ এবং সিআইএর একাধিক হত্যাকাণ্ড সত্ত্বেও ইরানের কেন্দ্রীয় কমান্ড কার্যকর।
ইরানের জনগণের ভেতর দ্বন্দ্ব থাকলেও, বাইরের হুমকির বিরুদ্ধে জাতীয় ক্রোধ বড় হয়ে উঠেছে। নতুন প্রজন্মের ইরানি যোদ্ধাদের প্রতিরোধ মানুষের মধ্যে উজ্জীবনা সৃষ্টি করছে।
বিশ্লেষকরা মোহাম্মদ এসলামি ও জেইনাব মালাকুতি উল্লেখ করেছেন, “ট্রাম্প মনে করছেন, হরমুজকে যুদ্ধবিরতি বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। কিন্তু বাস্তবে, ইরান হরমুজকে যুদ্ধ-পরবর্তী স্থায়ী নিয়ন্ত্রণের জন্য দেখছে।”
আঞ্চলিক প্রভাব
উপসাগরীয় দেশগুলো ট্রাম্পকে ইরান আক্রমণ করতে নিরুৎসাহিত করেছিল। তাদের তেল ও গ্যাস শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হোটেল ও বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ট্রাম্প ও তার পরিবারের বিনিয়োগ সত্ত্বেও তারা কিছুই লাভ করতে পারেনি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই যুদ্ধের শেষে ইরান আরও শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা ইরানের কৌশল, যা মার্কিন বিজয় ঘোষণা সত্ত্বেও কার্যকর থাকবে।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: নেতানিয়াহু সারাজীবন ইরান আক্রমণের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ইরান ও আরব বিশ্বকে একত্রিত করেছে—গরিব ও ধনী, সুন্নি ও শিয়া—মধ্যপ্রাচ্যের নতুন শক্তির প্রতীক হিসেবে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।
সাজু/নিএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);