হরমুজ প্রণালি ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তেহরান। সোমবার (৩০ মার্চ) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএনএর বরাত দিয়ে আইআরজিসি জানায়, গুরুতর আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছিলেন, ইসরায়েলি বাহিনীর পরিচালিত একটি ‘নির্ভুল ও প্রাণঘাতী অভিযানে’ তাংসিরি এবং আরও কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ইরানের বন্দর নগরী বন্দর আব্বাস-এ চালানো এক হামলায় তাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়।
এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, হরমুজ প্রণালি বন্ধের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তে তাংসিরির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
এদিকে, প্রায় এক মাস ধরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। কূটনৈতিক তৎপরতার আড়ালে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে ওয়াশিংটন—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।
সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের নিয়ন্ত্রিত দ্বীপগুলো দখলের চেষ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাদের ভাষায়, মার্কিন বাহিনী সহজে এসব দ্বীপে প্রবেশ করতে পারলেও পরবর্তীতে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে এবং ‘টার্গেটেড ফায়ার’-এর মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়া এবং সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোনো সামরিক অভিযান শুরু হলে প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানের রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করার চেষ্টা করবে। এরপর ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ধ্বংসের চেষ্টা চালানো হতে পারে। এই ধাপগুলোকে ‘প্রস্তুতিমূলক অভিযান’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপের নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে খারগ দ্বীপ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যেখান থেকে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয়। এছাড়া আবু মুসা দ্বীপ এবং এর আশপাশের দ্বীপগুলোও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আরেকটি সম্ভাব্য লক্ষ্য কেশম দ্বীপ, যেখানে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণের জন্য টানেল নির্মাণ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্রপথের পরিবর্তে আকাশপথে অভিযান চালানোর সম্ভাবনাই বেশি। কারণ হরমুজ প্রণালি-তে ইরানের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ থাকায় বড় যুদ্ধজাহাজ নিয়ে প্রবেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তাই হেলিকপ্টার ও বিশেষ সামরিক বিমান ব্যবহার করে দ্রুত সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।
সব মিলিয়ে, তাংসিরির মৃত্যুকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে এবং পরিস্থিতি যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
সাজু/নিএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);