আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণা পোস্টার ব্যবহার বাদসহ একাধিক পরিবর্তন এনে খসড়া প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে অংশীজনদের কাছে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মতামত গ্রহণ করবে সংস্থাটি।
বুধবার (১০ জুন) রাতে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে এ খসড়া প্রকাশ করে সংস্থাটি।
মতামত গ্রহণ সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, উপজেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনসমূহের আলোকে এসব আচরণ বিধিমালা তৈরি করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আইন ১৯৯৮, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এবং জেলা পরিষদ আইন ২০০০-এর সংশোধন আইন ২০২৬ গেজেটে প্রকাশের পর এসব বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়।
প্রণীত খসড়াগুলো হলো— উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ২০২৬, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ২০২৬, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ২০২৬, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ২০২৬ এবং জেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ২০২৬।
এ বিষয়ে চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন নাগরিকদের কাছ থেকে সুচিন্তিত মতামত আহ্বান করেছে। খসড়াগুলো নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট www.ecs.gov.bd-এ প্রকাশ করা হয়েছে এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর ই-মেইলেও পাঠানো হয়েছে।
মতামত আগামী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ই-মেইল [email protected] অথবা ডাকযোগে সিনিয়র সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, নির্বাচন ভবন, আগারগাঁও, ঢাকা-১২০৭ ঠিকানায় পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নতুন নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী, সব প্রার্থী সমানভাবে প্রচারণা চালানোর সুযোগ পাবেন। প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো ধরনের প্রচারণা করা যাবে না এবং নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো প্রতিষ্ঠানকে চাঁদা, অনুদান বা অনুদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া নিষিদ্ধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য, ভুয়া কনটেন্ট, ঘৃণাত্মক বক্তব্য বা চরিত্রহননমূলক প্রচারণা চালানো যাবে না।
বিধিমালায় জনসভা, শোভাযাত্রা, মিছিল ও শোডাউনের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। জনসংযোগ, পথসভা ও ঘরোয়া সভা ছাড়া অন্য কোনো ধরনের জনসমাবেশ করা যাবে না। পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যানার, ফেস্টুন ও লিফলেট নির্ধারিত আকার ও শর্ত মেনে ব্যবহার করতে হবে। দেয়াল লিখন, গেট-তোরণ নির্মাণ, আলোকসজ্জা, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্রচারসামগ্রী ব্যবহার এবং সরকারি স্থাপনায় প্রচারণাও নিষিদ্ধ থাকবে।
ভোটারদের প্রভাবিত করতে খাদ্য, পানীয়, উপহার বা অর্থ বিতরণ করা যাবে না। ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ। প্রচারণায় জীবন্ত প্রাণীকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। হেলিকপ্টার ব্যবহার, যানবাহন নিয়ে শোডাউন এবং নির্ধারিত সীমার বাইরে নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপনেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ভোটার স্লিপ বিতরণ করা যাবে না এবং মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা মেনে চলতে হবে।
এ ছাড়া অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিআইপি), সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, ফলক উন্মোচন বা অনুদান ঘোষণা করা যাবে না। নির্বাচনি ব্যয়সীমা অতিক্রম করা নিষিদ্ধ এবং সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ব্যয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত হবে।
অর্থ, অস্ত্র, পেশিশক্তি বা স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তদন্ত শেষে নির্বাচন কমিশন প্রার্থীর প্রার্থিতাও বাতিল করতে পারবে।
সাজু/নিএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);