ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসে দালালির অভিযোগে উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও একটি কম্পিউটার দোকানের পরিচালক মিলনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত নেতার পক্ষে সুপারিশ করতে গিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একেএম রায়হানুর রহমানকে ফোন করেন উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিল। তাদের কথোপকথনের একটি অডিও বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একেএম রায়হানুর রহমান। আদালত দণ্ডপ্রাপ্ত মিলনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পৌর সদরের কুসুমদী গ্রামের বাসিন্দা মিলন দীর্ঘদিন ধরে আলফাডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে একটি কম্পিউটারের দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অফিসের নামে জমির নামজারি, খাজনা পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন। এ ছাড়া বিভিন্ন কাজের অজুহাতে প্রতিদিন একাধিকবার উপজেলা ও পৌর ভূমি অফিসে যাতায়াত করতেন।
সূত্রটি আরও জানায়, তাকে একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল এবং দালালি ছেড়ে অন্য পেশায় জীবিকা নির্বাহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সতর্ক করার পরও তিনি একই কার্যক্রম চালিয়ে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে শোনা যায়, উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করে বলেন, ‘মিলন আমাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। তাকে একবার শুধরে নেওয়ার সুযোগ দিন।’ জবাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনি বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে অনুরোধ রাখতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে আব্দুল জলিলকে বলতে শোনা যায়, ‘ঠিক আছে, এমপি স্যারকে বলি।’
এ বিষয়ে আব্দুল জলিল বলেন, দলের এক নেতার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে ফোন করেছিলেন। পরে বিস্তারিত জানার পর আর কোনো সুপারিশ করেননি; বরং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাই বলেছেন।
ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর বলেন, কোনো অপরাধীর পক্ষে সুপারিশ করা দলের সাংগঠনিক নীতিমালার পরিপন্থি। এমনটি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একেএম রায়হানুর রহমান জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। এছাড়া ভূমি অফিসে তার নিয়মিত যাতায়াতের একাধিক ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তের প্রতিষ্ঠানে সেবার ধরন ও নির্ধারিত মূল্যসংক্রান্ত কোনো তালিকাও প্রদর্শন করা হয়নি। এসব বিবেচনায় আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);