আমাদের শরীর বড় কোনো অসুখের আগে অনেক সময়ই সূক্ষ্ম কিছু সতর্ক সংকেত দেয়। হৃদ্যন্ত্র, লিভার, কিডনি বা ফুসফুসে সমস্যা তৈরি হলে তার কিছু সাধারণ লক্ষণ আগে থেকেই দেখা যেতে পারে। যেমন, হার্টের সমস্যার ক্ষেত্রে অল্প পরিশ্রমেই অতিরিক্ত হাঁপিয়ে যাওয়া, সিঁড়ি ওঠানামার সময় বুকে চাপ লাগা, কিংবা ব্যথা বাঁহাত, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়া—এসব গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে।
শরীর সাধারণত ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে বড় সমস্যার আগাম বার্তা দেয়। কিন্তু অনেকেই এসব লক্ষণকে গুরুত্ব না দিয়ে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ মানুষ ব্যথা না হওয়া পর্যন্ত বিষয়গুলো গুরুত্ব দেন না। অথচ ব্যথা শুরু হওয়া মানেই হলো শরীরের ভেতরে ইতোমধ্যে কিছুটা ক্ষতি হয়ে গেছে। তাই আগেভাগেই সতর্ক হওয়া জরুরি।
তাহলে কীভাবে বুঝবেন শরীরের কোনো অঙ্গে চাপ পড়ছে?
প্রথম লক্ষণ হতে পারে অকারণ ক্লান্তি। পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি সারাদিন দুর্বলতা বা শক্তিহীনতা অনুভব করেন, তবে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। শুধু কাজের চাপ নয়, শরীরের ভেতরের কোনো অঙ্গ সঠিকভাবে কাজ না করলেও এমন ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
দ্বিতীয়ত, ত্বক, চুল ও নখের পরিবর্তনের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। হঠাৎ ত্বক নিস্তেজ হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত চুল পড়া, বা নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া—এসব লক্ষণ শরীরের ভেতরের ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে পুষ্টির ঘাটতি থাকলে এ ধরনের উপসর্গ দেখা যায়।
তৃতীয়ত খাওয়াদাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ কমে যাওয়া কিংবা হজম ক্ষমতা কমে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। হঠাৎ খিদে কমে যাওয়া, বারবার পেট ফেঁপে যাওয়া, পেটে ও বুকে অস্বস্তি— এসব অনেকেই এড়িয়ে চলেন। কিন্তু হজমতন্ত্র, লিভার কিংবা অন্য অঙ্গের ওপর চাপের ইঙ্গিত হতে পারে এই লক্ষণগুলোই।
চতুর্থত একইভাবে প্রস্রাবের ধরন কিংবা রঙে পরিবর্তন হলেও উপেক্ষা করা উচিত নয়। পা ফুলে গেলেও সতর্ক হতে হবে। তা ছাড়া হঠাৎ যদি চোখের তলা ফুলে যায়, তখনো বুঝতে হবে—আপনার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। শরীরের বর্জ্য বেরোনোর এ প্রক্রিয়ায় বদল এলে তা কিডনি বা অন্যান্য অঙ্গের সমস্যার সংকেতবার্তা হতে পারে।
পঞ্চমত সারাক্ষণ মাথাব্যথায় ভুগছেন, ওষুধ খেয়ে ব্যথা কমাচ্ছেন অথচ চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন না। অথবা চিন্তাভাবনা গুলিয়ে যাচ্ছে কিংবা কিছু ভাবতে গিয়ে ক্লান্ত লাগছে— এমন সময়ে কাজের চাপ ভেবে এড়িয়ে যান অনেকেই। কিন্তু আপনার শরীরের পানিশূন্যতা, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা মস্তিষ্কজনিত কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে এসব। আবার পায়ে অসাড়তা, বসা থেকে উঠলে মাথা ঘুরে যাওয়া ইত্যাদিও স্নায়ু এবং মেরুদণ্ডের সমস্যার কারণে হতে পারে।
এসব লক্ষণ কখনো কখনো সাধারণ বলে মনে হয়। তাই ক্লান্তি, বয়স বৃদ্ধি কিংবা ব্যস্ত জীবনের ঘাড়ে দোষ দিয়ে এড়িয়ে যান অনেকেই। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন— এই ছোট ছোট পরিবর্তনই ভবিষ্যতের বড় সমস্যার সূত্রপাত হতে পারে। তাই সুস্থ থাকার মূল মন্ত্র হওয়া উচিত— আগে থেকেই উপসর্গগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া।
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);