সোমবার (১৫ জুন) সকাল থেকে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের নির্মল চন্দ্র কার্বারীর বাড়ির আঙিনায় এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এ চিকিৎসা ক্যাম্পে নির্মল চন্দ্র কার্বারি পাড়া ও আশপাশের বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু চিকিৎসা নিতে আসেন।
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও মানুষজন স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেবার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা নেন। অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি দল রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করেন এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়।
এই ক্যাম্পে সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশি, চর্মরোগ, গ্যাস্ট্রিক, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, রক্তচাপসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সমস্যা চিকিৎসা দেওয়া হয়। অনেক রোগী দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিতে না পারায় এই উদ্যোগকে অত্যন্ত উপকারী বলে জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া এখনো অনেক কঠিন। অর্থনৈতিক সংকট, যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বলতা এবং সচেতনতার অভাবে অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারেন না। ফলে এ ধরনের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প তাদের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে কাজ করছে।
সেবা নেওয়া রোগীরা জানান, নিকটস্থ হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যেতে হলে সময় ও অর্থ দুই-ই ব্যয় হয়, যা তাদের পক্ষে সবসময় সম্ভব হয় না। তাই স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের চিকিৎসা ক্যাম্প নিয়মিত হলে সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।
ক্যাম্পের আয়োজক হোটেল গাইরিংয়ের সত্ত্বাধিকারী এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, ‘মানুষের সেবা করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও আমরা এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় এখনো অনেক মানুষ ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। আমরা চাই তাদের দোরগোড়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা পৌঁছে দিতে। এটি শুধুমাত্র একটি সামাজিক উদ্যোগ নয়, বরং আমাদের দায়িত্ববোধের অংশ।’
দেশের খ্যাতনামা মেডিসিন ও ক্লিনিক্যাল কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. মহসিন জিল্লুর করিম জানান, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এবং নিয়মিত ভিত্তিতে এ ধরনের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে আরও বেশি মানুষ উপকৃত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে এবং দরিদ্র মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে।
এই ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। উপকারভোগীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও বেশি করে আয়োজনের আহ্বান জানান। স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগকে একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন অনেকে।
রোহান/সা.এ.
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);