বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
কর্মমুখী শিক্ষায় জোর দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি ৭০ শহীদ ও আহত পরিবারের মাঝে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দুই লাখ টাকা ঘুষসহ সাব-রেজিস্ট্রারসহ আটক ৩ সীমিত সম্পদের ভারসাম্য রক্ষায় জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়: তথ্য উপদেষ্টা বেশি ভাড়া নিলে রুট পারমিট বাতিল: সড়কমন্ত্রী নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী: মাহ্দী আমিন  আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে পুলিশ-জনতার সমন্বয় বাড়াতে হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল | Amar Bangla BANGLADESH দক্ষিণ সুদানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সদস্যের মৃত্যু ক্ষুদ্র পরসিরে ৩৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে  প্রথম জাতিসংঘে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান  বিশ্বের তুলনায় দেশে জ্বালানি তেলের দাম কম : রিজভী ক্ষুদ্র পরসিরে ৩৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে  প্রথম জাতিসংঘে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান  পর্যটন বিকাশে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জরুরি: মীর হেলাল উদ্দিন এমপি গাজী নজরুল ও তাঁর স্ত্রী রিমান্ডে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৩৭.৫ ডিগ্রিতে ইতালির সঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ ইস্তাম্বুল হয়ে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ ঘিরে নিউইয়র্কে ব্যাপক কৌতূহল আটক চারজন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি শিশুদের মানবেতর জীবন

সীমু দা
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ন
%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BF %E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87 %E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF %E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0 %E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A6%B0 %E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%AC%E0%A6%A8

প্রতিদিন সকালেই পূর্ব জেরুজালেমের শুফাত শরণার্থী শিবিরের ১৭ বছরের কিশোর মোহাম্মদের ঘরটিতে যান তার মা ফিদা জালাবানি। গোছানো বিছানা আর জামাকাপড় ঠিক করেন, যেগুলো দিনশেষেও একেবারেই untouched বা অক্ষত থাকে। কারণ, আজ থেকে তিন বছরেরও বেশি সময় আগে ইসরায়েলি বাহিনী যখন মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়, তারপর থেকে সে আর এই ঘরে পা রাখতে পারেনি।


মাত্র ১৩ বছর বয়সে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়। চেকপোস্টে একটি বাসে সেনাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়। ঘটনার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সে তার এক বন্ধুকে ইসরায়েলি সেনার গুলিতে নিহত হতে দেখেছিল। সেই ঘটনার সময় এক নিরাপত্তা রক্ষীর গুলিতে আক্রান্ত সেনাই মারা যান, আর এর জন্য মোহাম্মদকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।


কারাগারে অবর্ণনীয় নির্যাতন ও অনাহার : মা ফিদা জানান, গত প্রায় দুই বছর ধরে তাকে মেগিদো কারাগারে তার ছেলের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে ছেলের স্বাস্থ্য নিয়ে তিনি চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। তার বিশ্বাস, মোহাম্মদসহ অন্যান্য শিশু বন্দিদের ওপর নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন ও দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে।


কারাগারের আইনজীবীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, শিশু বন্দিরা বেশিরভাগ দিনই ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যায়। ১৩ জন বন্দির জন্য মাত্র চার টুকরো রুটি বরাদ্দ থাকে। এছাড়া অতিরিক্ত ভিড় ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে সেখানে স্ক্যাবিস বা চুলকানিসহ বিভিন্ন চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও কারা কর্তৃপক্ষ সবসময় অনাহারের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, তবুও বন্দি শিশুদের ওপর সেল রেইড, মারধর এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা শক্ত করে বেঁধে রাখার মতো অমানবিক আচরণ নিয়মিত ঘটে চলেছে।


ফিলিস্তিনি বন্দি অধিকার সংস্থার তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের পর থেকে কেবল অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকেই প্রায় ১,৯০০ ফিলিস্তিনি শিশুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারে অন্তত ৩৬০ জন ফিলিস্তিনি শিশু বন্দি রয়েছে।


‘সে তো কেবলই একটি শিশু’ : অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরে তাম্মুন এলাকার ১৬ বছরের কিশোরী ওলা কাতিশাত। গত ২৪ মে ঠিক মধ্যরাতে বোনের উচ্চমাধ্যমিক পাস করার আনন্দ নিয়ে কথা বলছিল সে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের বাড়িতে হানা দিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগে ওলাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। কী সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো পর্যন্ত পরিবারকে কিছু জানানো হয়নি। এই আকস্মিক গ্রেপ্তার এখনো তাদের পরিবারের জন্য চরম একটি ধাক্কা।


মুক্তির পরও কারাগারের বিভীষিকা : বে বেথেলহেমের-এর দক্ষিণ দিকের বেইত ফাজ্জার এলাকার ১৬ বছরের মুইন সালাহাত গত বছরের জুনে ১৬ মাসের প্রশাসনিক আটকাদেশ (কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই কারাবাস) শেষে মুক্তি পায়। তবে কারাগারের দিনগুলো তার পিছু ছাড়ছে না।


কারাগারে থাকার সময় সে স্ক্যাবিস রোগে আক্রান্ত হলেও কোনো চিকিৎসা পায়নি। মুক্তির পরও তার শরীরে গুরুতর চর্মরোগের ক্ষত রয়ে গেছে, যা তাকে রাতে ঘুমাতে দেয় না। তার বাবা গাসসান জানান, মুইন এখন আগের মতো স্বাভাবিক নেই। খাওয়ার সময় হঠাৎ থালায় খাবার রেখে সে ঘোরের মধ্যে চলে যায় এবং কারাগারের সেই জঘন্য খাবার ও সেনাসদস্যদের অকারণে সেলে গ্যাস ক্যানিস্টার নিক্ষেপ করে শিশু বন্দিদের দম বন্ধ করে ফেলার রোমহর্ষক বর্ণনা দিতে শুরু করে। কারাগারে দীর্ঘদিন পিছিয়ে পড়ার কারণে সে এখন পড়াশোনা ছেড়েই দিতে চাচ্ছে।


কারাগারের বাইরে এসেও এই শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে যে ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল তাদের ব্যক্তিগত জীবন নয়, বরং পুরো একটি প্রজন্মের ওপর গভীর ক্ষত তৈরি করছে।




আমার বাঙলা/রাজীব


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Theme Created By