জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, দেশপ্রেম, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে নরসিংদীর মনোহরদীতে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬’ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী এবং নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনের সংসদ সদস্য সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বকুল। এতে সভাপতিত্ব করেন মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সজিব মিয়া, মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দুলান, মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর বাদশা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনির হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেহানা আক্তার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সদস্য ভিপি গোলাম মোস্তফাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হওয়ার পাশাপাশি অন্যায়, শোষণ, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তাঁর সাহিত্য ও সংগীতে সাম্য, মানবতা, স্বাধীনতা, দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িকতার যে শক্তিশালী বার্তা রয়েছে, তা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
তারা আরও বলেন, পাঠ্যবইয়ের সীমার বাইরে শিক্ষার্থীদের নজরুলের বিস্তৃত সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মেধা, মনন ও সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশ ঘটবে। পাশাপাশি জাতীয় কবির জীবনাদর্শ ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে তাদের আগ্রহও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। উদ্বোধনী পর্বে শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যনির্ভর বিভিন্ন পরিবেশনা অনুষ্ঠানে বাড়তি মাত্রা যোগ করে।
আয়োজকরা জানান, ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬’ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এই সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় কবির সাহিত্য ও সংগীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর সাম্য, মানবতা, দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা এবং তাদের সুপ্ত সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
আমার বাঙলা/ রাব্বি