চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বন্যাকবলিত গুনাগরি এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে কোমরসমান পানিতে নেমে বিভিন্ন পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার উপজেলার গুনাগরি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে স্বাগত জানান। কেউ ঘরের বারান্দা থেকে, কেউ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র থেকে, আবার কেউ পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান। স্থানীয়দের অনেকেই তাকে ‘দাদু’ বলে সম্বোধন করেন, যা সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে পরিচিতি পেয়েছে।
এ সময় ডা. শফিকুর রহমান গাড়ি থেকে নেমে বন্যাদুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন। পরে লাবুর দোকানের পাশে স্থাপিত একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে কয়েকদিন ধরে আশ্রয় নেওয়া শতাধিক পরিবারের মধ্যে নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
ত্রাণ বিতরণের পর তিনি পানিবন্দি বাড়িগুলোতেও যান। পাঞ্জাবি গুটিয়ে কোমরসমান পানি অতিক্রম করে একাধিক বাড়িতে গিয়ে বাসিন্দাদের খোঁজখবর নেন। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে সহায়তা তুলে দেন।
গুনাগরির বাসিন্দা আহমেদ হোসেন বলেন, “তিন দিন ধরে আমরা পানিবন্দি। অনেকেই এসেছে, ছবি তুলে চলে গেছে। কিন্তু তিনি আমাদের বাড়ির সামনে পর্যন্ত এসে খোঁজ নিয়েছেন।”
অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ফারাছা বেগম বলেন, “আমাদের ঘরের চাল পর্যন্ত পানি উঠে গেছে। প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছি। তিনি এসে আমাদের কথা শুনেছেন এবং সহযোগিতা করেছেন।”
স্থানীয় তরুণ রুবেল হোসেন বলেন, “মানুষ তাকে ‘দাদু’ বলে ডাকে। আজ দেখলাম, তিনি নিরাপদ জায়গায় দাঁড়িয়ে শুধু ত্রাণ বিতরণ করেননি, বরং পানিতে নেমে মানুষের কাছে গিয়েছেন।”
একই আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত কিরণ বালা জলদাস বলেন, “আমার সঙ্গে ছোট নাতি ও মাত্র ২০ দিনের একটি শিশু রয়েছে। তিনি এসে তাদের খোঁজ নিয়েছেন। এমন সময়ে কেউ পাশে দাঁড়ালে সাহস পাওয়া যায়।”
স্থানীয়দের দাবি, গুনাগরি এলাকার অন্তত ৩০০টি বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবার তিন দিন ধরে নিজ বাড়ি ছেড়ে স্কুল, দোকানের দোতলা কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।
ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আমি এখানে রাজনীতি করতে আসিনি। বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের বাস্তব পরিস্থিতি দেখতে এসেছি।”
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দল বিষয়টি উত্থাপন করেছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মানুষের দুর্ভোগ কাগজে-কলমে বোঝা যায় না। মাঠে এসে না দেখলে এই কষ্ট অনুভব করা সম্ভব নয়। সরকারের উচিত দ্রুত উদ্ধার, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা।”
সাম্প্রতিক বন্যা, পাহাড়ধস ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। মহান আল্লাহ তাদের মাগফিরাত দান করুন।”
বক্তব্য শেষে তিনি আবারও বন্যাকবলিত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। এ সময় অনেকেই তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, কেউ নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরেন, আবার কেউ ছবি তোলেন।
রোহান/সা.এ.
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);