কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালীকৃষ্ণনগর বন বিটের আওতাধীন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কোটি টাকা মূল্যের গাছ অবৈধভাবে কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় উপকারভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রি করছে। এ ঘটনায় বিভাগীয় কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা প্রায় ১৮০ একর আয়তনের সংরক্ষিত সরকারি বনাঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ ও ঔষধি গাছ রয়েছে। সামাজিক বনায়নের প্রথম পর্যায়ে ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে গাছ রোপণ এবং ২০০৬-০৭ সালে কর্তন শেষে দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে নতুন করে আকাশমনি, বেলজিয়াম ও ক্রসসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে এই বনাঞ্চলের বিপুল পরিমাণ গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। বনজুড়ে এখনও শত শত কাটা গাছের গুঁড়ি ও ডালপালা পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব গাছের বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক লক্ষাধিক টাকা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কালীকৃষ্ণনগর বন বিট কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াজুল হক ও বনরক্ষী শাহজাহানের নেতৃত্বে একটি চক্র নিলাম ছাড়াই বনাঞ্চলের গাছ কেটে বিভিন্ন স-মিলে বিক্রি করছে। সম্প্রতি গাছ কর্তনের একটি ঘটনায় হাতেনাতে ধরা পড়ার অভিযোগ তুলে কুমিল্লা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আনোয়ার হোসেন, মিজানুর রহমান লিটন মেম্বার, মাসুক মিয়া, মিজানুর রহমান মুহুরী, খোরশেদ আলমসহ ২৫ জন।
উপকারভোগী মিজানুর রহমান মুহুরী বলেন,২০০৮-০৯ সালে লাগানো গাছগুলো এখন পরিপক্ব হয়েছে। কিন্তু নিলাম ছাড়াই প্রকাশ্যে গাছ কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে গাছ চুরির মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। এমনকি মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার নামে অর্থও আদায় করা হয়।
বাকশীমূল ইউনিয়নের কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে স্থানীয় একজনের কাছ থেকে বৈধভাবে গাছ কিনেছিলাম। পরে বন কর্মকর্তা ইয়াজুল হক আমাকে মামলার ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেন।এছাড়াও তিনি একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কালীকৃষ্ণনগর বন বিটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াজুল হক বলেন,আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে আমি জড়িত নই।তবে তিনি সংবাদ পরিবেশন না করার অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে কোটবাড়ি রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল চৌধুরী বলেন, “বিট কর্মকর্তা মো. ইয়াজুল হকের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন বিভাগীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);