বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বেলঘড়িয়া বাজার এলাকায় কথিত মাদক কারবারি হিসেবে অভিযুক্ত এক দম্পতি ও তাদের ছোট ছেলেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। অভিযান চলাকালে অভিযুক্তদের বড় ছেলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তদের বাড়ি তল্লাশি করে একটি চাইনিজ কুড়াল ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক জসিম, তার স্ত্রী জোৎস্না এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রায় ১০ বছর আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে এসে শেরপুরের বেলঘড়িয়া এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ এক দশক ধরে তারা এই এলাকায় গোপনে ও প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাদকের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় প্রায় ১০ দিন আগে এলাকাবাসী জসিম ও তার পরিবারকে ডেকে এনে মাদক ব্যবসা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করে দেন। সে সময় তারা ব্যবসা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করেননি। উল্টো শনিবার সকালে অভিযুক্তরা বেলঘড়িয়া বাজারে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। এতে এলাকাবাসীর ধৈর্যচ্যুতি ঘটে।
চ্যালেঞ্জের পরপরই স্থানীয় বিএনপি নেতা ফিরোজ মাহমুদ ও পৌর বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রাহুমা ইসলাম রিচিসহ বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একজোট হয়ে ওই মাদক চক্রের আস্তানায় অভিযান চালান। অভিযানে মূল অভিযুক্ত জসিম, তার স্ত্রী জোৎস্না ও তাদের ছোট ছেলে কষ্ট-কে আটক করতে পারলেও, এলাকাবাসীর উপস্থিতি টের পেয়ে জসিমের বড় ছেলে জীবন ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আটকের পর বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও ‘এসো গড়ি সমৃদ্ধ শেরপুর-ধুনট’ এর আহ্বায়ক আসিফ সিরাজ রব্বানীকে জানানো হয়। তিনি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে শেরপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে আটককৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে পুলিশ অভিযুক্তদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি দেশীয় চাইনিজ কুড়াল ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক জসিম ও তার স্ত্রী জোৎস্না দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করলেও, তাদের ছোট ছেলে ‘কষ্ট’ নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছে। শেরপুর থানা পুলিশ অফিসার ইনচার্জ এসএম মইনুদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এবং উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ করে আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামি জীবনকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);