ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীতে জেলের বরশিতে আটকা পড়া একটি কুমিরকে প্রায় ৯ ঘণ্টা পর সফলভাবে উদ্ধার করেছে খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাজীবাড়ি খেয়াঘাট এলাকা থেকে কুমিরটি উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, সকালে গোপালপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় জেলেদের ফেলা হাজাইরা বরশিতে কুমিরটি আটকা পড়ে। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় জেলেরা ঝুঁকি নিয়েই কুমিরটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে কাজীবাড়ি ঘাটে নিয়ে আসেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ ও স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে কুমিরটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। পরে বিকেলে খুলনা থেকে আসা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কুমিরটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
খুলনা বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা তন্ময় আচার্য জানান, উদ্ধার হওয়া কুমিরটি একটি পুরুষ নোনা পানির প্রজাতির। সাধারণত এ ধরনের কুমির সমুদ্র বা উপকূলীয় লবণাক্ত পানিতে বসবাস করে। তবে জোয়ার-ভাটা, খাদ্যের সন্ধান কিংবা প্রাকৃতিক কারণে মাঝে মাঝে তারা মিঠা পানির নদীতেও প্রবেশ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কুমিরটিকে প্রথমে খুলনায় নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপযুক্ত পরিবেশে—সম্ভবত নোনা পানির স্বাভাবিক আবাসস্থলে—এটিকে অবমুক্ত করা হবে।
উদ্ধারে সহায়তাকারী জেলে স্বপন ব্যাপারী, রাজীব ব্যাপারী, রবিউল ব্যাপারী ও বিল্লাল খান জানান, প্রতিদিনের মতো মাছ ধরতে গিয়ে হঠাৎ বরশিতে অস্বাভাবিক টান অনুভব করেন তারা। পরে বুঝতে পারেন একটি বড় কুমির আটকা পড়েছে। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তারা কুমিরটিকে জীবিত উদ্ধার করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন।
চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে কুমিরটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। তিনি নদীতীরবর্তী এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নোনা পানির কুমির পাওয়া যাওয়ায় শিশু ও গবাদিপশু নিয়ে নদীতে নামার ক্ষেত্রে সবাইকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।” স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে শিগগিরই প্রচারণা চালানো হবে।
উল্লেখ্য, পদ্মা নদী কুমিরের স্বাভাবিক আবাসস্থল না হলেও অতীতেও বিচ্ছিন্নভাবে এখানে কুমির দেখা যাওয়ার ঘটনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর গতিপথের পরিবর্তন এবং খাদ্যের সন্ধান—এসব কারণেই এমন অস্বাভাবিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);