জেলা পর্যায়ে ক্রিকেট লিগ আয়োজনের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে দুই মাস পেরিয়ে গেলেও দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে মাত্র ১৫টি জেলা ক্রীড়া সংস্থা পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। বাকি ৪৯টি জেলা থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের পাইপলাইন সচল রাখা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত শুক্রবার বিসিবি টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, লিগ আয়োজনে আগ্রহ দেখিয়ে মাত্র ১৫টি জেলা ক্রীড়া সংস্থা পরিকল্পনা পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, বেশিরভাগ জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান অ্যাডহক কমিটিগুলো বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। জেলা প্রশাসকরা মূলত নির্বাচিত কমিটির অপেক্ষায় আছেন, আর বিসিবিকেও সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বিসিবি মনে করে, নিয়মিত জেলা লিগ না হওয়ার কারণে তৃণমূল থেকে নতুন ও প্রতিভাবান ক্রিকেটার তুলে আনা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ জেলা পর্যায়ে লিগ আয়োজনের জন্য প্রতিটি সংস্থাকে প্রতি বছর পাঁচ লাখ টাকা করে অনুদান দেয় বোর্ড। অতীতে লিগ না খেলেই শুধু স্কোরকার্ড তৈরি করে অনুদানের টাকা তুলে নেওয়ার কিছু অনিয়ম বিসিবির তদন্তে ধরা পড়ার পর সেই অনুদানের অর্থ ছাড় আটকে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান পর্ষদ নিয়মিত লিগ আয়োজনের মাধ্যমে এই দুর্নীতি ও ফাঁকিঝুকি চিরতরে বন্ধ করতে চায়।
টুর্নামেন্ট কমিটির ম্যানেজার আবু ইমাম মো. কাউসার এ বিষয়ে জানান, বেশিরভাগ জেলাকে অনুদানের অর্ধেক টাকা দেওয়া হয়েছে এবং লিগ সম্পন্ন হলে বাকি অংশ ছাড় করা হবে। পাশাপাশি খেলার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হতে পারে। তবে যে জেলাগুলোতে লিগ অনুষ্ঠিত হবে না, তাদের পরবর্তীতে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না—এমন কঠোর নীতিমালা করতে পারে বোর্ড।
সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, বেশিরভাগ জেলা ক্রীড়া সংস্থা শুধু জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ও ইয়ুথ ক্রিকেট লিগ খেলে বছর পার করে দেয়। এতে নামমাত্র ২০-২৫ জন ক্রিকেটার সুযোগ পেলেও তৃণমূলের প্রকৃত বিকাশ ঘটে না। বোর্ড চায় জেলা লিগ নিয়মিত হোক, যাতে প্রতি বছর অন্তত ৩০০ জন ক্রিকেটার ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় এবং সেখান থেকে ৫-৬ জন মানসম্মত খেলোয়াড় উঠে আসে। জেলা প্রশাসক ও সভাপতিরা জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যে জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নির্বাচন সম্পন্ন হলে লিগ আয়োজনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া যেসব জেলায় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো দূর করতেও বোর্ড বিশেষ উদ্যোগ নেবে।
আমার বাঙলা/রাজীব