জাতীয় স্বার্থবিরোধী মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে আজ বিকেল ৪ টায় রাজধানীর শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্যোগে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে এই চুক্তির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
অধিকারকর্মী মাহতাবউদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি, ময়মনসিংহ জেলার প্রতিনিধি আবুল কালাম আল আজাদ, শিক্ষক ও গবেষক মাহা মির্জা ও ডা. হারুন-অর-রশীদ।
সমাবেশে ডা. হারুন-অর-রশীদ বলেন, “এই বাণিজ্য চুক্তি দেশের ঔষধ শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করবে। বর্তমানে বাংলাদেশে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনের যে সক্ষমতা গড়ে উঠেছে তা মূলত তুলনামূলক নমনীয় পেটেন্ট নীতির কারণে সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এই চুক্তির মাধ্যমে এমন কিছু মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত শর্ত আরোপের আশঙ্কা রয়েছে যেখানে দেশীয় কোম্পানিগুলো আর সহজে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন করতে পারবে না। ফলে বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানির ওপর নির্ভরতা বাড়বে। চুক্তির ফলে ওষুধের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। এতে একদিকে যেমন দেশীয় ঔষধ শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে, অন্যদিকে জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তাও চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।”
সভায় মাহা মির্জা বলেন, “এই চুক্তি স্থানীয় শিল্পকে ধ্বসিয়ে দিবে, তিল তিল করে গড়ে তোলা পোল্ট্রি শিল্পকে ধ্বংস করবে, গরিব মানুষের রুটি-রুজি বিপন্ন করবে। জনস্বার্থ বিরোধী চুক্তি করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। এই ধরনের চুক্তি মূলত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের ওপর সরাসরি আঘাত হানবে। বিরোধী দলকেও এই বাস্তবতা অনুধাবন করতে হবে, মার্কিন তাবেদারি করে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা যায় না।”
সভাপ্রধানের বক্তব্যে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, “এই ধরনের বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে আমাদের ওপর এমন অনেক পণ্য আমদানি করার চাপ তৈরি হবে, যেগুলো বাস্তবে দেশের জন্য প্রয়োজনীয় নয়। এমনকি যেসব পণ্য আমরা অন্য দেশ থেকে কম দামে সংগ্রহ করতে পারি, সেগুলোও বেশি দামে নির্দিষ্ট উৎস থেকে আমদানি করতে বাধ্য করা হবে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি অযৌক্তিক ব্যয়ের চাপে পড়বে এবং বাজারব্যবস্থা বিকৃত হবে।
এর চেয়েও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের স্বাধীন বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সংকুচিত হবে। কোন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করব, কোথা থেকে প্রতিরক্ষা সামগ্রী কিনব, এসব সিদ্ধান্তও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেসব দেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব রয়েছে, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ লাভজনক ও প্রয়োজনীয় সম্পর্কও স্থাপন করতে পারবে না। ফলে এটি শুধু একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়; বরং দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন নীতিনির্ধারণের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের একটি প্রক্রিয়া। এই চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্বার্থের পরিপন্থী হবে।”
পরিশেষে সমাবেশ থেকে বক্তারা দেশের সম্পদ, বাজার ও শ্রমশক্তিকে বিদেশি স্বার্থে উন্মুক্ত করার এই প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);