কিরগিজস্তানে অধ্যয়নরত ১৫০-এরও বেশি বাংলাদেশি মেডিকেল শিক্ষার্থী গত জুলাই ২০২৫ থেকে ভিসা জটিলতার কারণে বাংলাদেশে আটকে আছেন। কিরগিজ ভিসা পোর্টালে স্টুডেন্ট ভিসা ক্যাটাগরি “উন্মুক্ত” দেখালেও সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ্য ছাড়াই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন অনুমোদন করা হচ্ছে না। কিরগিজ সরকার কোনো অগ্রিম সতর্ক বার্তা ছাড়াই আমাদের ভিসা প্রদান করা বন্ধ রেখেছে।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা একটি পূর্ণ সেমিস্টার হারিয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের হুমকির মুখে পড়েছেন। এই বিষয়ে আজ ৬ই এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন কিরগিজস্তানে ভুক্তভোগী মেডিকেল শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাধরিল হুদা, মোস্তফা আবিদ, শাহনাজ আক্তার, সাহিদা আক্তার, সাফওয়ান সহ আরো অনেকে। কিরগিজস্তানের বিভিন্ন স্বীকৃত মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে শত শত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এমবিবিএস কোর্সে অধ্যয়নরত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: Kyrgyz State Medical Academy (KSMA) International European University (IEU)Salymbekov Medical University (SMU)Avicenna International Medical University (AIMU) সহ কিরগিজস্তানের অন্যান্য মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
এই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বা বিশ্ববিদ্যালয় স্থানান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্বল্পকালীন সময়ের জন্য বাংলাদেশে ফিরে আসেন – যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু ফেরার সময় ভিসার আবেদন করলে তা কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই আটকে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মাননীয় রাষ্ট্রদূত কিরগিজস্তান সফর করা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি।
বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব:
শিক্ষাগত ক্ষতি: একটি পূর্ণ সেমিস্টার ইতিমধ্যে নষ্ট হয়েছে।
বহিষ্কারের হুমকি: অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের নোটিশের মুখে পড়েছেন। আর্থিক ক্ষতি: টিউশন ফি, থাকার খরচ এবং অন্যান্য ব্যয় ইতিমধ্যে পরিশোধ হয়েছে- শিক্ষার্থীরা ফিরতে না পারায় সেই অর্থ সম্পূর্ণ নষ্ট হচ্ছে।মানসিক চাপ: ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় ভুগছেন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার।ক্যারিয়ার ঝুঁকি: এই ব্যাঘাত দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসক হিসেবে তাদের পেশাদার ভবিষ্যৎকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এ পর্যন্ত যা করা হয়েছে: শিক্ষার্থীরা নিষ্ক্রিয় ছিলেন না। ইতিমধ্যে নিম্নলিখিত কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। ঢাকাস্থ কিরগিজ অনারারি কনস্যুলেট এবং নয়াদিল্লিস্থ কিরগিজ দূতাবাস, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এবং উজবেকিস্তানে অবস্থিত বাংলাদেশি এম্ব্যাসি কিরগিজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার বিভাগ। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষতবুও আজ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সমাধান বা সুনির্দিষ্ট সময়সীমা পাওয়া যায়নি।
তাদের দাবি:
শিক্ষার্থীরা নিম্নলিখিত দাবি জানাচ্ছেন :
১. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আবেদন: যেহেতু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ পাওয়া যায়নি, তাই আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি—এই শিক্ষাজীবন রক্ষায় তিনি যেন ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করেন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনাপ্রদান করেন।
২. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: জরুরি ভিত্তিতে কিরগিজ কর্তৃপক্ষের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন করে চলমান শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা অনুমোদন পুনরায় চালু করুন। এবং কিরগিজস্তানে একটি এম্বাসি অথবা একটি দায়িত্বশীল কনস্যুলার বিভাগ চালু করা।
৩. শিক্ষা মন্ত্রণালয়: চলমান শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে কিরগিজ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রেরণ করুন।
৪. কিরগিজ কর্তৃপক্ষ: চলমান শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ ভিসা অনুমোদন রুট বা ব্যতিক্রম বিধান তৈরি করুন ।
সালাউদ্দিন/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);