বরগুনার আমতলী বাস ডিপো এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫ গ্রাম হেরোইনসহ রিয়াদ হাওলাদার ও জাহিদ হাওলাদার নামের দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
বরগুনা জেলার আমতলী থানাধীন সাত নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা ভবন সংলগ্ন বাস ডিপোর ভেতরে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা শাখা। বরগুনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কুদরত-ই-খুদার সার্বিক দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিবি পুলিশের এসআই মোহাম্মদ আব্দুল হাই এবং তার সঙ্গীয় ফোর্স।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে ১৫ গ্রাম হেরোইনসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াদ হাওলাদার এবং জাহিদ হাওলাদারকে। দীর্ঘ সময় ধরে মাদক কারবারিরা এই বাস ডিপোটিকে তাদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই সফল অভিযানের মধ্য দিয়ে আমতলী এলাকার মাদক নির্মূলের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে রিয়াদ হাওলাদার ৪০ বছর বয়সী এবং জাহিদ হাওলাদারের বয়স ২৩ বছর, যাদের উভয়েরই বাড়ি আমতলী পৌরসভা এলাকায়। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে, বাস ডিপোর মতো জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানটিকে মাদক কেনাবেচার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে এলাকার তরুণ প্রজন্ম এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দিনের আলোয় এবং গভীর রাতে বাস ডিপোর আড়ালে মাদক কারবারিদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকায় এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছিল। মাদক কারবারিরা মূলত বাস স্টাফদের আড়ালে এবং ডিপোর অন্ধকার কোণগুলোকে ব্যবহার করে তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত, যা সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পরিবেশকে বিষিয়ে তুলেছিল।
অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ৮(ক) ও ৪১ ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আমতলী থানায় দায়ের করা এই এজাহারে মাদক কারবারের সাথে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, জেলার কোনো প্রান্তেই মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড় দেওয়া হবে না এবং এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল মনে করছে, শুধুমাত্র গ্রেপ্তারের মাধ্যমেই মাদক সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; এর জন্য বাস ডিপোসহ অন্যান্য জনসমাগমস্থলে সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।
বরগুনার পরিবহন কেন্দ্রগুলোতে মাদক কারবারিদের এই অনুপ্রবেশ জননিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমতলীর এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, অপরাধীরা সাধারণ মানুষের যাতায়াতের স্থানগুলোকে তাদের অবৈধ ব্যবসার লক্ষ্যবস্তু করছে, যা পরিবহন খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ দমনে প্রশাসনিক কঠোরতা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। মাদক নির্মূলে পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযান সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা এখন দেখার বিষয়।
সালাউদ্দিন/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);