কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত ও উপকূলজুড়ে একের পর এক অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচজন নারী-পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ ও কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ মরদেহের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। ফলে এগুলো সীমান্তপারের সংঘাত, সাগরে ট্রলারডুবি, মানবপাচার নাকি অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিজিবির সাউদার্ন পয়েন্ট সংলগ্ন নাফ নদীতে ভাসমান অবস্থায় সর্বশেষ একটি মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে শাহপরীরদ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ি ও টেকনাফ নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় পুরো শরীরে পচন ধরেছে। ফলে ঘটনাস্থলে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আশপাশের কেউও মরদেহটি শনাক্ত করতে পারেননি। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরিচয় শনাক্তে বিভিন্ন থানায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা যাচাইসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি কোথা থেকে এসেছে, তা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। কারও ধারণা, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মরদেহটি নাফ নদীর স্রোতে ভেসে এসেছে। আবার অনেকে মনে করছেন, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া কোনো জেলের মরদেহও হতে পারে। সম্প্রতি সাগরে রোহিঙ্গাবাহী একটি ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে কারও মরদেহ হওয়ার সম্ভাবনার কথাও স্থানীয়দের কেউ কেউ উল্লেখ করছেন। তবে এসবই প্রাথমিক ধারণা। কোনো বিষয়ই এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।
শাহপরীরদ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সনজীব কান্তি নাথ বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নাফ নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল নৌ-পুলিশের অধিক্ষেত্রে হওয়ায় টেকনাফ নৌ-পুলিশকে জানানো হয়। পরে নৌ-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন নাথ ঘটনাস্থলে এসে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।
তিনি বলেন, মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৮ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত সেন্টমার্টিন, শাহপরীরদ্বীপ ও টেকনাফ সদর উপকূলীয় এলাকার নাফ নদী এবং বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট পাঁচটি অজ্ঞাত মরদেহ ও কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয়ই রয়েছেন। অধিকাংশ মরদেহই অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল, ফলে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিটি ঘটনার আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি মরদেহগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, টেকনাফের নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত অতিক্রম, মানবপাচার, মাদক চোরাচালান, অবৈধ নৌযান চলাচল এবং বৈরী আবহাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। তাই অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের প্রতিটি ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে সীমান্ত ও উপকূলে নজরদারি আরও জোরদার করারও প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
বাপ্পি/সা.এ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);