কুমিল্লায় মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক মো. গোলাম রসুল মজুমদার লিটনকে (৪৮) কুপিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য দুই বছর পর উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সামাজিক সালিশে যুক্ত থাকার ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে জানিয়েছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সামছুজ্জামান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সামছুজ্জামান বলেন, মামলার আসামি সাফায়েত আলী ওরফে সাফু (৩৫) কারাগার থেকে রিমান্ডে আসার পর জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক দিদারুল ফেরদাউস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি ও পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নিহত গোলাম রসুল মজুমদার লিটন সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা দক্ষিণ ইউনিয়নের নলকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং নলকুড়ি ফোরকানিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। ২০২৪ সালের ৬ মার্চ পাঠদানরত অবস্থায় একই গ্রামের বাসিন্দা সাফায়েত আলী শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ধারালো দা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা ধাওয়া করে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী মাহমুদা হেলেন চৌধুরী বাদী হয়ে সাফায়েত আলী ও তার বড় ভাই কেরামত আলীসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ সাফায়েতকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তিনি তখন কোনো স্বীকারোক্তি দেননি। পরে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ ও অন্য আসামিদের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট না হওয়ায় মামলার বাদী আদালতে নারাজি আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে সাফায়েত আলীকে এক দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দেন এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পিবিআই জানিয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডে তিনি একাই জড়িত ছিলেন।
পিবিআই কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. মতিয়ার রহমান জানান, সাফায়েত আলী একসময় সিঙ্গাপুর প্রবাসী ছিলেন। দেশে ফিরে বিয়ে করলেও পরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। সংসারের দায়িত্ব পালন করতে না পারায় স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। এছাড়া জমি বিক্রি করে আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েন তিনি। এসব পারিবারিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ করেছিলেন শিক্ষক গোলাম রসুল মজুমদার লিটন। সেই সালিশকে কেন্দ্র করে সাফায়েতের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং ওই ক্ষোভ থেকেই তিনি মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষক লিটনকে কুপিয়ে হত্যা করেন।
রোহান/সা.এ.
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);