আর কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধান। চোখের সামনে যেন নিভে যেতে বসেছিল একটি তাজা প্রাণ। চলন্ত আন্তঃনগর ট্রেনের নিচে পড়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছিলেন এক তরুণী। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিন পথচারীর অসাধারণ সাহসিকতা, মানবিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধিতে মৃত্যুকে হারিয়ে নতুন জীবন ফিরে পান তিনি। হৃদয়বিদারক সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশংসায় ভাসছেন ওই তিন ব্যক্তি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে এক মিনিট চার সেকেন্ডের একটি ভিডিও গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, চলন্ত ট্রেনের গর্জনের মধ্যেই প্ল্যাটফর্মের কিনারায় ঝুলে থাকা এক তরুণীর দুই হাত শক্ত করে ধরে রেখেছেন তিন ব্যক্তি।
একজন তার পিঠে হাত রেখে সাহস জোগাচ্ছেন, আরেকজন বারবার বলছেন, “আপা, কোনো সমস্যা নেই, নড়াচড়া কইরেন না।” অন্য একজন সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন, “আল্লাহ বাঁচাবেন।”
চারদিকে তখন আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা। চলন্ত ট্রেনের প্রতিটি বগি যেন মৃত্যুর ছায়া হয়ে ছুটে যাচ্ছিল তরুণীর গা ঘেঁষে। উপস্থিত মানুষের বুক কাঁপছিল শঙ্কায়। কেউ নিঃশব্দে প্রার্থনা করছিলেন, কেউ তাকিয়ে ছিলেন নিঃশ্বাস বন্ধ করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে গাইবান্ধা রেলস্টেশনে। একটি আন্তঃনগর ট্রেনে উঠতে গিয়ে পা ফসকে রেললাইনে পড়ে যান ওই তরুণী। ঠিক সেই মুহূর্তে ট্রেন চলতে শুরু করায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। তবে প্ল্যাটফর্মে থাকা তিন ব্যক্তি মুহূর্তের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার হাত ধরে রাখেন। দীর্ঘ কয়েকটি সেকেন্ড মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর ট্রেনটি চলে গেলে অবশেষে তাকে নিরাপদে প্ল্যাটফর্মে তুলে আনা হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রেনটি সম্পূর্ণ চলে যাওয়ার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে একজন বলে ওঠেন, “আলহামদুলিল্লাহ।” এরপর উপস্থিত মানুষের মুখেও ফুটে ওঠে স্বস্তি আর আবেগ।
প্রত্যক্ষদর্শী তাজুল ইসলাম, রানা মিয়া ও লেবু মিয়া জানান, তরুণীটি একটি ব্যাগ নিয়ে প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করছিলেন। ট্রেন আসার পর তাড়াহুড়ো করে উঠতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যান। তখন কয়েকজনের তাৎক্ষণিক উদ্যোগেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কলেজ শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “প্ল্যাটফর্মে থাকা ওই ব্যক্তিদের সাহসিকতা ও মানবিকতা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। কয়েক সেকেন্ড দেরি হলে হয়তো আমরা একটি মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর শুনতাম। তাদের কারণে একটি প্রাণ বেঁচে গেছে।”
স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, এটি শুধু একটি উদ্ধার অভিযান নয়, মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যখন চারদিকে স্বার্থ আর উদাসীনতার অভিযোগ শোনা যায়, তখন তিন সাধারণ মানুষের অসাধারণ সাহসিকতা প্রমাণ করল—মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য। মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা সেই তরুণীর গল্প এখন গাইবান্ধাজুড়ে মানবতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
রোহান/সা.এ.
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);