বর্তমান যুগে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যোগাযোগ, বিনোদন, ছবি তোলা থেকে শুরু করে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ—সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয়। বাজারে প্রতিনিয়ত আসছে নতুন নতুন মডেলের স্মার্টফোন। এত এত ব্র্যান্ড আর ফিচারের ভিড়ে নিজের জন্য সঠিক ফোনটি বেছে নেওয়া বেশ বিভ্রান্তিকর হতে পারে। পত্রিকায় বা অনলাইনে প্রকাশের জন্য আকর্ষণীয় এবং তথ্যবহুল একটি প্রতিবেদন নিচে দেওয়া হলো, যা পাঠকদের সঠিক স্মার্টফোনটি বেছে নিতে সাহায্য করবে।
নতুন স্মার্টফোন কেনার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন:-
স্মার্টফোন এখন আর কেবল কথা বলার যন্ত্র নয়; এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। বাজারে নিত্যনতুন মডেল আর ফিচারের ছড়াছড়ি। এর মধ্য থেকে নিজের প্রয়োজন এবং বাজেটের সঙ্গে মানানসই সঠিক স্মার্টফোনটি বেছে নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তাই নতুন স্মার্টফোন কেনার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বাজেট নির্ধারণ: স্মার্টফোন কেনার প্রথম ও প্রধান ধাপ হলো নিজের বাজেট নির্ধারণ করা। বাজারে ১২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দুই লক্ষ টাকারও বেশি দামের ফোন রয়েছে। আপনার বাজেট কত, তা আগে থেকেই নির্দিষ্ট করে নিলে এতসব মডেলের ভিড় থেকে নিজের পছন্দের ফোনটি বাছাই করার কাজটি অনেক সহজ হয়ে যায়।
অপারেটিং সিস্টেম কি নিবেন: অ্যান্ড্রয়েড নাকি আইওএস? স্মার্টফোনের প্রধান দুটি অপারেটিং সিস্টেম হলো গুগলের ‘অ্যান্ড্রয়েড’ (Android) এবং অ্যাপলের ‘আইওএস’ (iOS)। আপনি যদি কাস্টমাইজেশন পছন্দ করেন এবং বাজেটের মধ্যে অনেক অপশন চান, তবে অ্যান্ড্রয়েড আপনার জন্য সেরা। অন্যদিকে নিরাপত্তা, দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার আপডেট এবং প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা চাইলে অ্যাপলের আইফোন বেছে নিতে পারেন।
প্রসেসর ও র্যাম: ফোনের সার্বিক পারফরম্যান্স মূলত এর প্রসেসর এবং র্যামের ওপর নির্ভর করে। ভালো প্রসেসর (যেমন: স্ন্যাপড্রাগন, মিডিয়াটেক বা অ্যাপল বায়োনিক চিপ) দ্রুতগতির পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে। আপনি যদি গেমার হন বা ফোনে ভারী কাজ করেন, তবে শক্তিশালী প্রসেসরের বিকল্প নেই। আর বর্তমানে যেকোনো স্মার্টফোনে সাবলীল অভিজ্ঞতার জন্য অন্তত ৬ জিবি বা ৮ জিবি র্যাম থাকা বাঞ্ছনীয়।
ডিসপ্লে: ভিডিও দেখা, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বা গেম খেলার জন্য স্মার্টফোনের স্ক্রিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ৬.৪ থেকে ৬.৭ ইঞ্চির ডিসপ্লেগুলো এখন বেশ জনপ্রিয়। ডিসপ্লের ক্ষেত্রে অ্যামোলেড (AMOLED) বা ওলেড (OLED) প্যানেল বেছে নেওয়া ভালো, কারণ এতে রঙের গভীরতা এবং কনট্রাস্ট চমৎকার পাওয়া যায়। পাশাপাশি, স্ক্রল করার সময় মসৃণ অভিজ্ঞতার জন্য ৯০ হার্জ (90Hz) বা ১২০ হার্জ (120Hz) রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে বেছে নিন।
ক্যামেরা: শুধু মেগাপিক্সেলই শেষ কথা নয়। অনেকেই শুধু বেশি মেগাপিক্সেল দেখে ক্যামেরার মান বিচার করেন, যা একটি ভুল ধারণা। ক্যামেরার সেন্সরের আকার, লেন্সের অ্যাপারচার এবং ইমেজ প্রসেসিং সফটওয়্যার বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেনার আগে ইন্টারনেটে বিভিন্ন রিভিউ দেখে বা সম্ভব হলে নিজে ছবি তুলে ক্যামেরার মান (বিশেষ করে কম আলোতে ছবি তোলার ক্ষমতা) যাচাই করে নেওয়া উচিত।
ব্যাটারি ও ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি: সারাদিন নিশ্চিন্তে ফোন ব্যবহার করতে চাইলে ব্যাটারির দিকে নজর দিতে হবে। বর্তমানে অন্তত ৫০০০ এমএএইচ (5000 mAh) ক্ষমতার ব্যাটারি থাকা একটি স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধরা হয়। বড় ব্যাটারির পাশাপাশি ফোনটি কত ওয়াটের ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট করে, সেটিও দেখে নেওয়া উচিত, যাতে প্রয়োজনে খুব দ্রুত ফোন চার্জ করে নেওয়া যায়।
স্টোরেজ: জায়গা নিয়ে যেন ভাবতে না হয়। বর্তমানে অ্যাপ্লিকেশনের আকার এবং ছবি ও ভিডিওর সাইজ অনেক বড় হয়। তাই ভবিষ্যতে স্টোরেজ ফুল হওয়ার ঝামেলা এড়াতে অন্তত ১২৮ জিবি (128 GB) ইন্টারনাল স্টোরেজযুক্ত ফোন কেনা বুদ্ধিমানের কাজ।
ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি: ফোনটি হাতে নিতে কেমন লাগছে, ওজন ঠিক আছে কিনা এবং এটি কতটা টেকসই, সেদিকেও লক্ষ্য রাখুন। আধুনিক গ্লাসমর্ফিজম ডিজাইন বা স্লিক মেটাল ফ্রেমের ফোনগুলো দেখতে বেশ প্রিমিয়াম লাগে। তবে সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর স্থায়িত্বের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।
বিক্রয়োত্তর সেবা ও ওয়ারেন্টি: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো ব্র্যান্ডের বিক্রয়োত্তর সেবা। ফোন কেনার পর কোনো হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার জনিত সমস্যা হলে যেন দ্রুত ও সহজে সমাধান পাওয়া যায়, সেজন্য আপনার আশেপাশে ওই ব্র্যান্ডের অথরাইজড সার্ভিস সেন্টার আছে কিনা তা নিশ্চিত হয়ে অফিশিয়াল ফোন কেনাই সবচেয়ে নিরাপদ।
কেনার আগে অনলাইনে তথ্য যাচাই: এখন যেকোনো পণ্য কেনার আগে ইন্টারনেটে রিসার্চ করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
রিভিউ দেখা: ইউটিউব বা টেক ব্লগগুলোতে ওই নির্দিষ্ট মডেলের ‘ইন-ডেপথ’ রিভিউ দেখুন। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের পর ফোনের পারফরম্যান্স কেমন থাকে, তা জানতে ‘Long-term review’ গুলো গুরুত্ব দিন।
সঠিক ব্র্যান্ড নির্বাচন: ব্র্যান্ড নির্বাচন কেবল আভিজাত্যের বিষয় নয়, এটি আপনার বিনিয়োগের নিরাপত্তার সাথেও জড়িত।
রিসেল ভ্যালু: আপনি যদি ঘনঘন ফোন পরিবর্তন করতে পছন্দ করেন, তবে এমন ব্র্যান্ড বেছে নিন যার রিসেল ভ্যালু বাজারে ভালো।
অন্যের দেখাদেখি বা শুধু চটকদার বিজ্ঞাপনে মুগ্ধ হয়ে স্মার্টফোন কেনা থেকে বিরত থাকুন। আপনার দৈনন্দিন কাজের ধরন, প্রয়োজন এবং বাজেটের সঙ্গে কোন ফোনটি সবচেয়ে ভালো মানানসই, তা ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিন। একটু সময় নিয়ে যাচাই-বাছাই করে কিনলে আপনার কষ্টার্জিত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);