সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ ন্যায়বিচারেই শান্তির সংস্কৃতি: আইরিন খান বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব ৮ জানুয়ারি দুষ্টের দমনে কঠোর, শিষ্টের পালনে মানবিক হতে হবে: রাষ্ট্রপতি উল্টোপথে গাড়ি চালানোয় মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিচ্ছে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক হামে আরও ৩ মৃত্যু, নতুন রোগী ১,৪৪৪ বেনজীরের অবস্থান জানতে ইন্টারপোলকে পুলিশের চিঠি হরমুজে বাংলাদেশের জাহাজে বাধা নেই: ইরান পুলিশের ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বদলি ভোটার স্থানান্তরের আবেদন ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেপুটি স্পীকারের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে দেশে বর্তমান জ্বালানি সংকট উত্তরণে ‘পাঁচ দফা কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার ৫৫ বছরের রেকর্ড বিদ্যুৎ ঘাটতি, দায় ‘ভুল নীতি’ ও বৈশ্বিক সংকট এক-এগারো সরকারের সময়ে বর্তমান তারেক রহমানকে অমানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল অসুস্থ জ্বালানিমন্ত্রী টুকুকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইপিইউ সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জ্বালানি নিরাপত্তা না থাকলে টেকসই শিল্পায়ন সম্ভব নয়: ঢাকা চেম্বার সভাপতি

সীমু দা
শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:১৩ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের শিল্পখাতে জ্বালানির সংকট দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে। এমন বাস্তবতায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ও সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) যৌথভাবে “বাংলাদেশের শিল্পখাতে জ্বালানি সক্ষমতা নীতিমালা: টেকসই উন্নয়নের পথ–নির্দেশনা” শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) ডিসিসিআই মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় শিল্পখাতের জ্বালানি সংকট সমাধানে সমন্বিত নীতিমালা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।

গ্যাস–বিদ্যুতের সংকট শিল্পকে অস্তিত্ব সংকটে ঠেলে দিচ্ছে

স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, “দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারকারীর মাত্র ১৯ শতাংশ হলেও শিল্পখাত সবচেয়ে বড় চাপে রয়েছে। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে রেকর্ড ১৭৮ শতাংশ গ্যাস–মূল্য বৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক আরও ৩৩ শতাংশ সমন্বয়ের ফলে টেক্সটাইল, স্টিল ও সারের মতো খাতে উৎপাদন ৩০–৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এসএমই খাত আরও দুরবস্থার মধ্যে পড়েছে।”

তিনি বলেন, “নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ছাড়া শিল্পায়ন অসম্ভব। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া এখন জরুরি প্রয়োজন।”

নিজস্ব গ্যাস ব্যবহার করতে না পারা বড় ব্যর্থতা

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, “দেশের গ্যাস–মজুত কমে যাবে, এ কথা বহুদিন ধরে বলা হলেও অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানে তেমন অগ্রগতি হয়নি। ফলে দেশীয় উৎপাদন না বাড়ায় আমদানি–নির্ভরতা বেড়েছে।”

তিনি জানান, জ্বালানি খাতে এখনও দক্ষতার হার মাত্র ৩০ শতাংশের মতো। এ দক্ষতা বাড়াতে পারলে বিদ্যুৎ ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

সহায়ক নীতিমালা নেই, বাস্তবায়নেও ঘাটতি

আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেম নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। তিনি বলেন, “দেশের জ্বালানি খাতে মাস্টারপ্ল্যান থাকলেও সহায়ক নীতিমালা ও প্রণোদনার কাঠামো নেই। শিল্পে ‘এনার্জি সক্ষমতা’ বলতে কী বোঝানো হয়—সেটারও সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নেই।”

ঢাকা চেম্বার–সানেমের যৌথ ফোকাস গ্রুপ আলোচনায় উঠে আসে—এনার্জি অডিট নিশ্চিত করা, গ্রিড আধুনিকায়ন, জ্বালানি সাশ্রয়, অর্থায়ন ও প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং গ্যাস–বিদ্যুতের সরবরাহ উন্নয়ন এ মুহূর্তে জরুরি। কাঠামোগত, সরবরাহগত ও নীতি–বিধানগত—এই তিন স্তরেই জ্বালানি খাতে বড় সংস্কার প্রয়োজন।

২০ বিলিয়ন ডলারের আমদানি—দেশীয় উৎসে বিনিয়োগের সময় এসেছে

বিইপিআরসি সদস্য ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমদানিনির্ভর জ্বালানি কাঠামো চলতে থাকলে ব্যবসায়িক খরচ লাগামহীনভাবে বাড়বে। গত অর্থবছরে ২০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানি হয়েছে—যা দেশীয় উৎসে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগের ইঙ্গিত দেয়।”

গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা শুল্ক কাঠামো—এটা না বদলালে সমাধান হবে না

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি-এর চেয়ারম্যান ড. এম. রেজওয়ান খান বলেন, “শুল্ক কাঠামোর অসঙ্গতি দূর না করলে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকট কমবে না।” তিনি পিক ও অফ–পিক সময়ে আলাদা বিদ্যুৎ–মূল্য নির্ধারণের ওপরও জোর দেন।

শিল্পখাতের অভিযোগ—সরবরাহ সংকটে উৎপাদন অর্ধেক কমছে

আনোয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন বলেন, “কারখানায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় প্রায়ই ৫০ শতাংশ উৎপাদন ব্যাহত হয়।”

বিসিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, “এলপিজি বড় ভূমিকা রাখতে পারে, কিন্তু আর্থিক প্রণোদনার অভাব ও ১০ শতাংশ করারোপ খাতটিকে পিছিয়ে দিচ্ছে।”

বিএসআরইএ সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ জানান, প্রতিবছর জ্বালানির চাহিদা ২০ শতাংশ বাড়লেও বাস্তবায়ন–দুর্বলতার কারণে সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে। শিল্পখাতে ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়—তাই এনার্জি অডিট বাধ্যতামূলক করা ছাড়া উপায় নেই।

এলপিজি অটোগ্যাস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা বলেন, “নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংযোজনে এলপিজি স্টেশনগুলো থেকে ৭০০–৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। কিন্তু লাইসেন্স–জটিলতা ও হয়রানির কারণে উদ্যোক্তারা বিপাকে পড়ছেন।”

বিজিএমইএ সহ–সভাপতি বিদিয়া অমৃত খান জানান, বৈশ্বিক ক্রেতারা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন, অথচ জাতীয় গ্রিডে এ খাতের অবদান মাত্র ৪ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে নীতি সহায়তার ঘাটতি ও অর্থায়নের জটিলতা বড় বাধা।

ইডকলের উপ–প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মনিরুল ইসলাম বলেন, “নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়নে বড় ধরনের গ্যাপ রয়েছে।”

তিনি গ্রীন বন্ড চালুর মাধ্যমে অর্থায়নের নতুন পথ তৈরির পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে মালিক তালহা ইসমাইল বারী, এম বশিরউল্লাহ ভূইয়া, এম এস সিদ্দিকীসহ ডিসিসিআইর সাবেক নেতৃবৃন্দ ও সরকারি–বেসরকারি প্রতিনিধিরা মতামত দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিসিসিআই সহ–সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান।

বক্তারা বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা ছাড়া বাংলাদেশে টেকসই শিল্পায়ন সম্ভব নয়। এখন জরুরি হচ্ছে জ্বালানি সক্ষমতা বাড়ানো, সরবরাহ ব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে কেন্দ্র করে নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Theme Created By