শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে গত দুই দিন যাবত হঠাৎ করে রাতের বেলায় ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এলাকার মানুষের ঘরবাড়ি এবং গাছপালা। বেশকিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুত সরবরাহ। ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে বেশকিছু পরিবারের লোকজন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করার পর শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন উপজেলা প্রশাসন। এর আগে গত শনিবার ও রবিবার রাতে উপজেলা জুড়ে হঠাৎ করে প্রবল বেগে ঝড় ও শিলা বৃষ্টি হয়। তবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার রূপনারায়নকুড়া ইউনিয়নের সিঙ্গুয়ারপাড় গ্রামে।
ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার সিঙ্গুয়ারপাড় গ্রামবাসী জানান, শনিবার রাতে তারাবীর নামাজের সময় ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় উপজেলার বিভিন্নস্থানে গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় কাঁচা, টিনসেড ও আধাপাকা ঘরবাড়ি। নালিতাবাড়ী শহরে ধ্বসে পড়ে বাসাবাড়ির ইটের বাউন্ডারি দেয়াল। উপজেলার বিভিন্নস্থানে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিদ্যুত ব্যবস্থা। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রূপনারায়নকুড়া ইউনিয়নের সিঙ্গুয়ারপাড় গ্রাম। এ গ্রামের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেকের বাড়ির টিন গাছের ডালে এমনকি পাশের গ্রাম পর্যন্ত উড়িয়ে নিয়ে গেছে। ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অনেকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। রোববার রাতেও একইভাবে ঝড় বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তান্ডব চার্লিয়েছে। এতে মানুষের ঘরবাড়িসহ ফলজ ও কাঠগাছ ভেঙ্গে পড়েছে।
ওই এলাকার দিনমজুর মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ইফতারের দাওয়াতে স্ব-পরিবারে তিনি অন্য জায়গায় গিয়েছিলেন। রাত আটটার দিকে ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হলে তারা আত্মীয় বাড়িতেই আটকা পড়েন। ঝড়-তুফান শেষ হওয়ার পর বাড়ি ফিরে দেখেন ঘরবাড়ি ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। এখন তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই পর্যন্ত নেই।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরো জানান, এমন ঝড়ের কবলে তারা কোন দিনই আর পড়েননি। হঠাৎ করেই ঝড় এসে ঘরবাড়িসহ জীবনের সবকিছু যেন এলামেলো করে দিয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মো. আজিজুল হক জানান, আকস্মিক এই ঝড়ে শুধু ঘরবাড়িই নয়, ওই এলাকার গাছপালার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে।
ওই রুপনারনায়নকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর আল মামুন জানান, খবর পেয়ে রোববার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বিষয়টি ইউএনও স্যারকে জানানো হয়েছে।
এদিকে, নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মশিউর রহমান জানান, শিলা বৃষ্টিতে বোরো আবাদের তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে সবজি ও ভুট্টা আবাদের কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ নিয়ে আমরা কৃষকের পাশে থেকে পরামর্শ দিচ্ছি।
এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজুয়ানা আফরীন বলেন, সোমবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। একইসাথে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে, তাদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারীভাবে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);