ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য এক সেঞ্চুরি হাঁকালেন লিটন কুমার দাস। জাতীয় দলের এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান; সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে দলের ত্রাতার ভূমিকা পালন করেছেন।
লিটন দাসের (১২৬) টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরির কল্যাণে ১১৬ রানে ৬ স্বীকৃত ৬ ব্যাটসম্যানের উইকেট হারিয়ে দেড়শো রানের আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল বাংলাদেশ; সেই অবস্থা থেকে লেজের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে অবিশ্বাস্য লড়াইয়ে দলকে ২৭৮ রানে নিয়ে যান লিটন।
আজ শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচ। এদিন টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই আউট হয়ে ফেরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়।
দলীয় ৪৪ রানে ফেরেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমও। নিজের অভিষেক টেস্টে তামিম আউট হন ৩৪ বলে ২৬ রান করে।
ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক সৌরভ। ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রান করেন তিনি। তবে আজ সিলেট টেস্টে খেলতে নেমে ২২ রানের বেশি করতে পারেননি সবশেষ পাঁচ ইনিংসে ফিফটি হাঁকানো এই টেস্ট স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান।
ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি আর দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ রান করা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত; সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে সুবিধা করতে পারেননি। তিনি ফেরেন মাত্র ২৯ রান করে।
দলীয় ১০৫ রানে ফেরেন সাবেক আরেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তিনি ঢাকা টেস্টে ৭১ ও ২২ রান করে করলেও সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে ফেরেন ২৩ রানে।
মুশফিক আউট হওয়ার পর ব্যাট করতে নেমেই আউট হয়ে ফেরেন বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। তিনি ৬ বলে মাত্র ৪ রান করে ফেরেন। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে তার ভালো যাচ্ছে না। ঢাকা টেস্টের দুই ইনিংসে মিরাজ আউট হন ১০ ও ২৪ রান করে।
গত মাসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ মিরাজ। তিন ম্যাচে যথাক্রমে ৬, ৮* ও ২২ রানের বেশি করতে পারেননি এই অলরাউন্ডার।
১১৬ রানে স্বীকৃত ৬ ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার পর একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে ছিলেন লিটন কুমার দাস। তিনি দলকে গর্ত থেকে টেনে নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। সপ্তম উইকেটে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ৬০ রানের পার্টনারশিপ গড়েন লিটন। ৪০ বলে ১৬ রান করে আউট হন তাইজুল।
এরপর অষ্টম উইকেটে পেস বোলার তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে ৩৮ রানের জুটি গড়েন লিটন। ২১৪ রানে অষ্টম উইকেট পতনের পর আরেক পেসার শরীফুল ইসলামের সঙ্গে জুটি গড়েন লিটন।
নবম উইকেট ৬৬ রানের জুটি গড়ে দলকে তিনশ রানের (২৭৮) দুয়ারে নিয়ে গিয়ে আউট হন লিটন। হাসান আলীর বাউন্সি বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন লিটন। তার আগে ১৫৯ বলে ১৬টি চার আর দুটি ছক্কার সাহায্যে খেলেন ১২৬ রানের ঝলমলে এক ইনিংস।
৫৪তম টেস্টে ষষ্ঠ সেঞ্চুরি হাঁকালান লিটন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১১তম সেঞ্চুরি হাঁকালেন তিনি। ১০১টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ৫টি সেঞ্চুরি করেছেন জাতীয় দলের এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।
দলীয় ২৭৮ রানে লিটন আউট হওয়ার পর আর কোনো রান যোগ করার আগেই ফেরেন নাহিদ রান। তিনি ব্যাট করতে নেমেই সাজঘরে ফেরেন। মাত্র ৪ বল খেলার সুযোগ পান তিনি। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ২৭৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১২৬ রান করেন লিটন দাস। ২৯ রান করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ২৬ রান করেন তানজিদ হাসান তামিম। পাকিস্তানের হয়ে ৪ উইকেট নেন খুররম শাহজাদ। ৩ উইকেট নেন মোহাম্মদ আব্বাস। আর দুই উইকেট নেন হাসান আলি।
সালাউদ্দিন/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);