মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ ন্যায়বিচারেই শান্তির সংস্কৃতি: আইরিন খান বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব ৮ জানুয়ারি দুষ্টের দমনে কঠোর, শিষ্টের পালনে মানবিক হতে হবে: রাষ্ট্রপতি উল্টোপথে গাড়ি চালানোয় মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিচ্ছে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক হামে আরও ৩ মৃত্যু, নতুন রোগী ১,৪৪৪ বেনজীরের অবস্থান জানতে ইন্টারপোলকে পুলিশের চিঠি হরমুজে বাংলাদেশের জাহাজে বাধা নেই: ইরান পুলিশের ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বদলি ভোটার স্থানান্তরের আবেদন ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেপুটি স্পীকারের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে দেশে বর্তমান জ্বালানি সংকট উত্তরণে ‘পাঁচ দফা কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার

রোহিঙ্গাদের ভার বহন করা আর সম্ভব না: জাতিসংঘকে বাংলাদেশ

সীমু দা
শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৫৪ পূর্বাহ্ন

১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার ভার বাংলাদেশের পক্ষে আর বহন করা সম্ভব নয়। সেজন্য রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল বুধবার ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উদ্যোগে আয়োজিত ৮০তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গৃহীত এক প্রস্তাব পরবর্তী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে বলেন, ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তনের জন্য নতুন করে বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যৌথভাবে এ প্রস্তাব পেশ করেছে। আর ১০৫টি দেশ যৌথভাবে এ প্রস্তাবে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘২০১৭ সাল থেকে গৃহীত এই বার্ষিক প্রস্তাবে রাখাইন রাজ্যে অব্যাহত মানবাধিকার লঙ্ঘন, রোহিঙ্গা মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু করা, মানবিক প্রবেশাধিকারের ওপর বিধিনিষেধ এবং বাংলাদেশ ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশে রোহিঙ্গাদের অব্যাহত অনুপ্রবেশের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ এবং টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য অব্যাহত আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততারও আহ্বান জানানো হয়েছে।’

প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানায়। তবে গত আট বছরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তনের কোনও বাস্তব অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, ‘কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘুরা নিয়মতান্ত্রিক সহিংসতা, বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ব্যাপক নৃশংসতার পর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে তাদের গণবিতাড়িত হওয়ার এ বছর আট বছর পূর্ণ হয়েছে। প্রতি বছর ক্যাম্পের জনসংখ্যা ৩০ হাজার করে বৃদ্ধি পায়। এরপর নতুন করে সহিংসতার কারণে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়ে ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশে পৌঁছেছে। রোহিঙ্গাদের মোট সংখ্যা এখন ১৩ লাখ। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, কোনও অর্থবহ অগ্রগতি হয়নি এবং একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারেনি। তাই এই রেজুলেশন আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

এবারের আলোচনায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের লক্ষ্য করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বৃদ্ধির স্বীকৃতি দেয়। এতে ক্রমবর্ধমান ক্ষুধা, মানবিক সহায়তা বাধা এবং লাখ লাখ মানুষকে বাংলাদেশ ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রস্তাবে অবিলম্বে সহিংসতার অবসান, অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন, স্বচ্ছ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, অপরাধীদের জন্য জবাবদিহি এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য নিরন্তর মানবিক সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ‘মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অসহযোগিতার কারণে আসিয়ানের পাঁচ দফা ঐকমত্যে অগ্রগতির অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। রেজুলেশনে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে পর্যায়ক্রমিক উচ্চ পর্যায়ের সংলাপসহ নতুন করে প্রচেষ্টার পাশাপাশি আস্থা সৃষ্টির পদক্ষেপ হিসেবে রাখাইনে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক মানবিক সংগঠনগুলোর উপস্থিতির জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ একাধিক উন্নয়ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। নতুন আগতদের কারণে কক্সবাজারের ইতোমধ্যে জনাকীর্ণ ক্যাম্পগুলো আরও ভিড় করে তুলেছে। আমরা আর বোঝা বহন করতে পারছি না। তদুপরি, পরিস্থিতি মানবপাচার এবং অন্যান্য আন্তদেশীয় অপরাধের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। তাই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার স্বার্থে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় রাখাইনে যুক্তিসঙ্গত স্থিতিশীলতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন অপরিহার্য।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Theme Created By