বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পতিত জমিতে এখন রঙিন স্বপ্ন। ৩ থেকে এখন ৩০ বিঘা মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের গন্ধ বাতাসে বইছে। মাঠজুড়ে হলুদের সমারহ। ফসলি মাঠের চারপাশ ভরে উঠেছে হলুদের ঘ্রাণ আর সৌরভে। গাঢ় হলুদ বর্ণের এ ফুলে মৌমাছিরা গুনগুন করে মধু আহরণ করছে। চাষিরা বলছেন, বিঘা প্রতি ৫/৬ মণ সরিষা ঘরে তুলতে পারবেন তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পঞ্চকরণ ইউনিয়নের উত্তর কুমারিয়াজোলা গ্রামে দেশি আমন ধান কাটার পরে পতিত জমি পড়ে থাকত। সেখানে আজ তৈল ফসল সরিষা চাষে ভালো ফলনে অধিক লাভবান হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন একাধিক কৃষক। ২০২৫ সালে প্রথমে ৩ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছিলেন ৭-৮ জন কৃষক। চলতি বছর ৩৫ জন কৃষক ৩০ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ১০০ হেক্টর জমিতে বারি সরিষা ১৪, ১৮, ২০ এবং বিনা সরিষা-৯, ১১ প্রজাতি চাষাবাদ করেছেন কৃষকরা। গত বছরের চেয়ে ১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষাবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বলইবুনিয়া, পঞ্চকরণ, নিশানাবড়িয়া, দৈবজ্ঞহাটী, তেলিগাতি, বনগ্রাম, হোগলাপাশা ও হোগলাবুনিয়ায় সরিষার আবাদ বেড়েছে।
উত্তর কুমারিয়াজোলা গ্রামের কৃষাণী শ্যামলী রানী হালদার ১ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। এ ছাড়া অনিক তরফদার ৩ বিঘা, প্রদেশ মাঝি ৪ বিঘা, পাবেল রায় ১ বিঘা, বিভূতিভুষণ ১ বিঘা, বাদল তরফদার ১ বিঘা, প্রশান্ত বাড়ই ১ বিঘা, নিত্যনান্দ্র ৫ বিঘা- এরকম একাধিক কৃষক সরিষা চাষ করে ভালো ফলন পান।
তারা জানান, বিঘাপ্রতি তাদের ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা শ্রমিক মজুরি, সার কীটনাশক ও সেচ বাবদ খরচ হয়েছে। ভালো ফলনের কারণে প্রতি বিঘায় ৫ মণ সরিষা তুলতে পারবেন তারা। যার বাজারদর রয়েছে প্রতি মণে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। এছাড়া মাঠজুড়ে হলুদের সমারোহ দেখতে পার্শ্ববর্তী গ্রামের মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।
পঞ্চকরণ ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিপংকর সোমাদ্দার বলেন, খারইখালী উত্তর কুমারিয়াজোলা গ্রামে গত বছর মাত্র ৩ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছিলেন কৃষকরা। ফলন ভালো হওয়ায় এবারে কৃষি অধিদফতরের পরামর্শ অনুযায়ী তাদেরকে নিয়ে সভা করে ২০ জন কৃষককে প্রণোদনার আওতায় আনা হয়। এরপর বিনা-১১, ১৪ ও ১৮ এই ৩ প্রজাতের সরিষা ৩০ বিঘা জমিতে চাষ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে এখন হলুদ আর হলুদ। পতিত জমিতে কৃষকরা অধিক লাভের কারণে আগামীতে চাষাবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা রাখি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলায় ১০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। কৃষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সঠিক সময়ে পরামর্শ দেয়ার ফলে কৃষক ভালো ফলন ফলাতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে তদারকির জন্য আজকের এ সফলতা। আশা করছি সরিষার আবাদ দিন দিন আরো বৃদ্ধি পাবে।
সালাউদ্দিন/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);