দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাগেরহাটের মোংলা নদীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৪ ঘণ্টার ফেরি সার্ভিস চালু হয়েছে। এ উদ্যোগের ফলে মোংলা বন্দর, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), শিল্পাঞ্চল এবং আশপাশের উপজেলার হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে নদী পারাপারে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং কৃষি ও শিল্পপণ্য পরিবহনে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৮টায় স্থায়ী বন্দর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ফেরিঘাটে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ২৪ ঘণ্টার ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষের দুর্ভোগ লাঘব ও নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে এখন থেকে মোংলা নদীতে দুটি ফেরি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চলাচল করবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করছে এবং সবক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, ২০০৩ সালে মোংলা নদীতে ফেরি চলাচল শুরু হলেও এতদিন কেবল জোয়ারের সময় সীমিত পরিসরে ফেরি চলাচল করত। ফলে নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দা, কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে মানুষের সময় ও অর্থ—উভয়ই সাশ্রয় হবে। ফেরিঘাটে ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ভাড়ার চার্ট না থাকলে কেউ ভাড়া দেবেন না। আমরা সবক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই।”
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমাজের ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি সমস্যাগুলোও বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরতে হবে। এতে ভুল-ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, ২৪ ঘণ্টার ফেরি চলাচল শুরু হওয়ায় জয়মনির খাদ্যগুদাম থেকে পণ্য পরিবহন সহজ হবে। পাশাপাশি মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা ও রামপাল উপজেলার মানুষের যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহন আরও গতিশীল হবে। ফলে ফেরি সার্ভিসটি অর্থনৈতিকভাবেও লাভজনক হয়ে উঠবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে মোংলা নদীর ওপর একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করা হবে। সেতু নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দুটি ফেরি ২৪ ঘণ্টা চলাচল অব্যাহত থাকবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অনুপ দাস, বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম প্রামানিক, মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মোংলা পোর্ট পৌরসভার প্রশাসক শারমিন আক্তার সুমি, মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি মো. জুলফিকার আলী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির তালুকদার এবং গোলাম নুর জনিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সাজু/নিএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);