নেত্রকোনার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ডিলার নিয়োগে সরকারের নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে বলে সায়েদুজ্জামানা নামের এক ব্যবসায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে গত সোমবার (১৩ জুলাই) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ ও ডিলার নিয়োগের কয়েকজন আবেদনকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাইটাইল ইউনিয়নে একজন টিসিবি ডিলার নিয়োগের জন্য ১৬ জন ব্যবসায়ী আবেদন করেন। এই আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই ও তদন্তের জন্য গত ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হুমায়ূন কবিরকে দায়িত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিস।
যাচাই-বাছাই ও তদন্ত শেষে ১৬টি আবেদনের মধ্যে লাবিব এন্টারপ্রাইজ, জিসান এন্টারপ্রাইজ এবং মায়ের দোয়া স্টোর নামের তিনজন আবেদনকারীকে যোগ্য বলে ইউএনওর মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। তবে শুরু থেকেই জিসান এন্টারপ্রাইজ ও মায়ের দোয়া স্টোর নামীয় দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে।
নীতিমালায় উল্লেখ আছে যে, আবেদনকারীকে প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ী হতে হবে এবং ট্রেড লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে হবে। কিন্তু অভিযোগে বলা হয়েছে, এই নীতিমালা তোয়াক্কা না করে জিসান এন্টারপ্রাইজ ও মায়ের দোয়া স্টোর নামের দুই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য বলে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, এই দুটি প্রতিষ্ঠান কোনো মুদি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নয়। এ নিয়ে প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, জিসান এন্টারপ্রাইজ নামীয় কোনো মুদি ব্যবসায়ী নেই। আশরাফুল নামের এক মুদি ব্যবসায়ীর দোকানের সামনে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ছবি তুলে দায় সারার পর সেটি আবার সরিয়ে নেওয়া হয়। অপরদিকে, মায়ের দোয়া স্টোর নামীয় প্রতিষ্ঠানে হাঁস-মুরগি ও গরুর গোখাদ্য বিক্রি করা হচ্ছে।
ডিলারের জন্য আবেদনকারী মুদি ব্যবসায়ী কাজী আলম জানান, তিনি ১৯৯৮ সাল থেকে বাররী বাজারে মুদি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাকে বাদ দিয়ে যারা মুদি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন, তাদের বাছাই করা হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক। তিনি আরও জানান, জিসান এন্টারপ্রাইজ নামে যে মুদি দোকান দেখানো হয়েছে, সেটির মালিক মূলত আশরাফুল। তার দোকানে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে অভিনব কায়দায় ছবি তুলে অফিসারদের দেখানো হয়েছে। মায়ের দোয়া স্টোর মুদি ব্যবসা না করে হাঁস-মুরগি ও গরুর গোখাদ্য বিক্রি করছে।
বাররী বাজার কমিটির সহ-সভাপতি ও ব্যবসায়ী সানোয়ার হোসেন জানান, মায়ের দোয়া স্টোর মূলত হাঁস-মুরগি এবং গরু-ছাগলের খাবারের দোকান। পাশাপাশি ঔষধ বিক্রি করে। মনির পড়াশোনার পাশাপাশি তিন বছর ধরে এই ব্যবসা করছেন।
জানতে চাইলে মায়ের দোয়া স্টোরের প্রোপ্রাইটর মনির হোসাইন জানান, তিনি হাঁস-মুরগির খাবারের পাশাপাশি মুদি ব্যবসাও করেন।
জিসান এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর খালেকুজ্জামান হিরণ জানান, যেখানে সাইনবোর্ড টানানো দেখা গেছে, ওটা তার ঘর এবং তার দোকান।
কাইটাইল ইউনিয়নের তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মদন শাখা ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবির জানান, তিনি ইউএনও স্যারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে মতামত দিতে রাজি নন।
ইউএনও নাদীর হোসেন শামীম জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগটি দেখে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাপ্পি/সা.এ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);