বাংলার প্রাচীন রাজধানী ও ঐতিহ্যের জনপদ সোনারগাঁ এখন তারের জঞ্জালে বিপর্যস্ত। উপজেলার ব্যস্ত সড়ক,বাজার এলাকা ও আবাসিক মহল্লাজুড়ে মাথার ওপর ঝুলে আছে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও ডিশ লাইনের ছেঁড়া-ফাটা অসংখ্য তার। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
সরেজমিনে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা থেকে উদ্ধবগঞ্জ, বৈদ্যেরবাজার হয়ে কাঁচপুর পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে উদ্বেগজনক চিত্র। একেকটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি তার ঝুলছে। অতিরিক্ত ভারে কোথাও কোথাও খুঁটি কাত হয়ে পড়েছে। কোথাও ছিঁড়ে যাওয়া তার রাস্তার ওপর পড়ে আছে, আবার কোথাও পথচারীদের গায়ের খুব কাছ দিয়ে ঝুলে রয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সামান্য বৃষ্টি কিংবা ঝড়ো হাওয়া হলেই তার থেকে আগুনের ফুলকি ঝরতে দেখা যায়। এতে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে স্কুলগামী শিশুরা। একাধিক অভিভাবক জানান, বৃষ্টির দিনে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে-কোন তারে বিদ্যুৎ আছে, তা বোঝার কোনো উপায় নেই।
ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় সোনারগাঁয়ে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত রয়েছে। কিন্তু ঝুলে থাকা তারের বিশৃঙ্খলা এলাকার সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দোকানের সামনে তারের জটলার কারণে সব সময় অগ্নিকাণ্ডের শঙ্কায় থাকতে হয়। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি ব্যবসায়িক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়-এই তারের জঞ্জাল কেন অপসারণ করা হচ্ছে না?খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিভাগ, টেলিযোগাযোগ সংস্থা এবং বিভিন্ন ইন্টারনেট (আইএসপি) ও ডিশ ব্যবসায়ীদের মধ্যে কার্যকর কোনো সমন্বয় নেই। নতুন সংযোগ দেওয়ার সময় পুরোনো ও অকেজো তার অপসারণ করা হয় না। ফলে বছরের পর বছর ধরে এসব তার জমে বিপজ্জনক জঞ্জালে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
সোনারগাঁয়ের সচেতন নাগরিকরা বলছেন,সোনারগাঁ কোনো সাধারণ জনপদ নয়-এটি একটি আন্তর্জাতিক মানের ঐতিহাসিক ও পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিদিন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখর এই এলাকাজুড়ে এভাবে ঝুলে থাকা তারের বিশৃঙ্খলা শুধু ভয়াবহ নিরাপত্তা ঝুঁকিই নয়, পর্যটন নগরীর ভাবমূর্তির জন্যও বড় ধরনের হুমকি।নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের ভাষ্য, যে কোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, অথচ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর উদাসীনতায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে সোনারগাঁকে ‘তারের জঞ্জাল’ থেকে মুক্ত করতে কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতের ঝুঁকি এড়াতে আধুনিক ও পরিকল্পিত তার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তাঁরা।নাগরিকদের মতে, প্রয়োজনে মাটির নিচ দিয়ে ক্যাবল স্থাপনের (আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলিং) মতো দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত। এতে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য ও নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। তারের জঞ্জাল নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সালাউদ্দিন/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);