শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ ন্যায়বিচারেই শান্তির সংস্কৃতি: আইরিন খান বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব ৮ জানুয়ারি দুষ্টের দমনে কঠোর, শিষ্টের পালনে মানবিক হতে হবে: রাষ্ট্রপতি উল্টোপথে গাড়ি চালানোয় মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিচ্ছে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক হামে আরও ৩ মৃত্যু, নতুন রোগী ১,৪৪৪ বেনজীরের অবস্থান জানতে ইন্টারপোলকে পুলিশের চিঠি হরমুজে বাংলাদেশের জাহাজে বাধা নেই: ইরান পুলিশের ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বদলি ভোটার স্থানান্তরের আবেদন ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেপুটি স্পীকারের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে দেশে বর্তমান জ্বালানি সংকট উত্তরণে ‘পাঁচ দফা কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার ৫৫ বছরের রেকর্ড বিদ্যুৎ ঘাটতি, দায় ‘ভুল নীতি’ ও বৈশ্বিক সংকট এক-এগারো সরকারের সময়ে বর্তমান তারেক রহমানকে অমানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল অসুস্থ জ্বালানিমন্ত্রী টুকুকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইপিইউ সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপের সৌজন্য সাক্ষাৎ

অভিযুক্ত লিমন সম্পর্কে যা জানা গেলো

সীমু দা
রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহমানের ভাড়া বাসায় ঢুকে তার ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক লিমন মিয়া (৩৫) গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বাসিন্দা। উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের মদনের পাড়া গ্রামের বিএনপি নেতা ও সাবেক মেম্বার এইচ এম ছোলায়মান হোসেন শহীদের ছেলে তিনি। শহীদ মিয়া ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিমন ‘জিয়া সাইবার সোর্স’-এর জেলা কমিটির সদস্য হিসেবেও যুক্ত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শহীদ মিয়ার দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে লিমন মেঝ। গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। প্রায় সাত-আট বছর চাকরির পর ২০১৮ সালে সেনাবাহিনী ছেড়ে বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর থেকে ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া হাট ও বালাসী ঘাট এলাকায় শেয়ার ও বালু ব্যবসাসহ বিভিন্ন বাণিজ্যে যুক্ত ছিলেন।

পরিবারের দাবি, লিমন দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসার জন্য এক মাস আগেও ঢাকায় যান। কিন্তু ঢাকায় যাওয়ার পর থেকেই পরিবারের সঙ্গে তার আর কোনও যোগাযোগ ছিল না। রাজশাহীতে যাওয়ার কারণ বা বিচারকের পরিবারের সঙ্গে লিমনের সম্পর্কের বিষয়ে পরিবারের কেউ কিছু জানেন না।

লিমনের বাবা শহীদ মিয়া বলেন, ‘কলেজে পড়ার সময় লিমনের সেনাবাহিনীতে চাকরি হয়। তবে চাকরি ছেড়ে আসার পর থেকেই তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক দূরত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। সে এলাকায় ব্যবসা করতো, রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল না। এক মাস আগে চোখের চিকিৎসার কথা বলে ঢাকায় যায়। এরপর থেকে তার কোনও খোঁজ পাইনি।’

তিনি বলেন, ‘বিচারকের ছেলে হত্যার ঘটনায় পুলিশ আমার ছেলেকে আটক করেছে বলে শুনেছি। যদি সে জড়িত থাকে, আইন অনুযায়ী তার বিচার হোক—এ নিয়ে আমার কিছু বলার নেই।’

বিচারকের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহারের বাবার বাড়ি গাইবান্ধা শহরের এটেস্ট্রেটপাড়ায়। একই জেলার সন্তান হওয়ায় তাসমিন নাহার ও লিমনের মধ্যে পরিচয় ও যোগাযোগ গড়ে ওঠে। লিমন প্রায়ই আর্থিক সাহায্য চাইতেন। কিন্তু তাসমিন নাহার সহযোগিতা না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি একাধিকবার হুমকি দেন। সর্বশেষ ৩ নভেম্বর সকালে লিমন তাসমিন নাহারের মেয়ের ফেসবুক মেসেঞ্জারে কল করে পরিবারসহ হত্যার হুমকি দেন।

তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিমন ভিডিও বক্তব্যে দাবি করেন, ‘বিচারকের স্ত্রীর সঙ্গে তার পাঁচ বছরের সম্পর্ক ছিল এবং কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে সদস্য হওয়ার সূত্রে তাদের পরিচয়।’

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহীর ডাবতলা এলাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহমানের ভাড়া বাসায় প্রবেশ করেন লিমন মিয়া। এ সময় তিনি বিচারকের ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা এবং বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহারকে (৪৪) গুরুতর আহত করেন। পুলিশ দুজনকেই রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান জানান, হামলাকারীর পকেটে পাওয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা আর্থিক লেনদেনের কারণ থাকতে পারে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

এর আগে, গত ৬ নভেম্বর সিলেটের জালালাবাদ থানায় বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সদস্য লিমন মিয়া বারবার আর্থিক সাহায্য না পেয়ে তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। পুলিশ তখন তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Theme Created By