সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (ISP)-এর কার্যালয়, নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ও কর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন (BMPCA)-এর উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আজ ১৫ জুলাই ২০২৬ রোজ বুধবার সকাল ১১ ঘটিকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ISPAB)-এর সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন ও নিরাপত্তার মধ্যে আমরা ইন্টারনেট সেবা নিরবিচ্ছিন্নভাবে দিতে পারি না। চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীরা ২৪ ঘন্টা পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি। প্রত্যেকটি বিনয় কারী এবং কর্মচারী কর্মকর্তারা আতঙ্কে রয়েছে। তাই এই পরিস্থিতির মধ্যে যদি সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের গ্রেফতার করা না হয় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাহলে আমাদের সার্ভিস নিরবিচ্ছিন্নভাবে না দিতে পারার কারণে এমনি এমনি ভাবে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
আইএসপিএবি-এর সেক্রেটারি জেনারেল নাজমুল করিম ভূঁইয়া বলেন আমাদের কাজ রাস্তায় আন্দোলন করা না, কিন্তু চট্টগ্রামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও যখন সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা গ্রেপ্তার হয় না তখন বাধ্য হয়ে আমাদের নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে রাজপথে দাঁড়াতে হয়। ২৪ ঘন্টার মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আমরা পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নিব আরো কঠোর কর্মসূচি। আমাদেরকে কর্মসূচি দিতে বাধ্য করবেন না বলে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর ধারাবাহিক হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির ঘটনা শুধু উদ্যোক্তাদের জন্য নয়, বরং লাখ লাখ ইন্টারনেট গ্রাহকের স্বাভাবিক জীবন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স, মোবাইল ব্যাংকিং এবং সরকারি ডিজিটাল সেবাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট শুধু একটি বাণিজ্যিক সেবা নয়; এটি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও নাগরিক জীবনের অন্যতম অপরিহার্য অবকাঠামো।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত করা যেমন গুরুতর অপরাধ, তেমনি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, চাঁদাবাজি কিংবা নেটওয়ার্ক ধ্বংসের মাধ্যমে জনগণকে ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত করাও সমানভাবে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
মানববন্ধন থেকে সরকারের প্রতি নিম্নলিখিত দাবিসমূহ জানানো হয়—
১. ইন্টারনেট অবকাঠামো, ডেটা সেন্টার, ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক, টাওয়ার, আইএসপি অফিস ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
২. হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে প্রচলিত আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষতি করাকে গুরুতর অর্থনৈতিক ও ডিজিটাল অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, অনলাইন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ই-কমার্স, মোবাইল ব্যাংকিং ও সরকারি ডিজিটাল সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে ইন্টারনেট অবকাঠামোর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। আরব বক্তব্য রাখেন আইএসপি রসি কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);