বন্যার সময় আশ্রয় মিলবে—এই স্বপ্নে ফসলি জমি ছেড়ে দিয়েছিলেন চরবাসী। কিন্তু ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র প্রকল্পে এখন দাঁড়িয়ে আছে শুধু কয়েকটি কংক্রিটের কলাম। প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ নির্মাণকাজে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শ্রমিকরা, আর বন্যা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় নতুন করে শঙ্কায় পড়েছেন বানভাসি মানুষ।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটি বোচাগারির পোড়ারচরে (৮ নম্বর ওয়ার্ড) নির্মাণাধীন দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র প্রকল্পে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্প এলাকায় বালু ভরাট করা হলেও নির্মাণ হয়েছে মাত্র ৪০টি কলাম। মানুষের জন্য তিনতলা এবং গবাদিপশুর জন্য একতলা ভবন নির্মাণের কথা থাকলেও কাজ থেমে আছে শুরুতেই। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে নির্মাণসামগ্রী। মরিচা ধরেছে টিউবওয়েলে, ভেঙে পড়েছে শ্রমিকদের থাকার ঘর। দেখে বোঝার উপায় নেই, এখানে আবার কবে কাজ শুরু হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালে কাজ শুরু হলেও কয়েক মাস পরই হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ঠিকাদার, পিআইও কিংবা সংশ্লিষ্ট কাউকেই এলাকায় দেখা যায়নি।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. এন্তাজ আলী বলেন, “এই আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য ১২ বিঘা খাসজমি ছেড়ে দিয়েছি। ভাবছিলাম, অন্তত বন্যার সময় মানুষ ও গবাদিপশু নিয়ে আশ্রয় নিতে পারব। এখন না হচ্ছে আশ্রয়কেন্দ্র, না পাচ্ছি জমির ফসল।”
শ্রমিক ফজলু মিয়ার অভিযোগ, “পাঁচ-ছয় মাস কাজ করেছি। চার-পাঁচ লাখ টাকা পাওনা। এখন ঠিকাদারের ফোনও বন্ধ। কার কাছে যাব বুঝতে পারছি না।”
কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাফিজার রহমান বলেন, “মানুষ জমি দিয়েছে আশ্রয়ের আশায়। কিন্তু কাজ বন্ধ থাকায় তারা এখন হতাশ। দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করা দরকার।”
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উষাণ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সময় বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। শ্রমিকদের পাওনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কিছু টাকা হয়তো হেড মিস্ত্রির কাছে পাবেন।”
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মশিউর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় কাজ বন্ধ আছে। মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।”
অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই।”
কুশল/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);