চন্দ্রঘোনা, যেখানে খরস্রোতা কর্ণফুলী নদী রাঙামাটি থেকে রাজস্থলী ও বান্দরবানকে বিচ্ছিন্ন করেছে, সেখানে একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম ছিল ফেরি। বহু দাবি-দাওয়া, আন্দোলন ও কষ্টের অবসান ঘটতে যাচ্ছে এবার। এখানে নির্মিত হতে যাচ্ছে ক্যাবল-স্টেইড সেতু, যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৫৩২ মিটার। সেতুটি নির্মিত হলে তিন পার্বত্য জেলা সড়কপথের একই নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে।
রাঙামাটির সঙ্গে রাজস্থলী ও বান্দরবানে যাতায়াত সহজ করতে ১৯৮৯ সালে রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে কর্ণফুলী নদীর ওপর ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়। ফেরি চালুর ৩৭ বছর পরও এখনো আগের মতোই একটি ফেরির মাধ্যমে দুই পাড়ের শত শত যানবাহন পারাপার করা হয়।
তবে এই ফেরি ব্যবস্থাই এখন সবচেয়ে বড় ভোগান্তির নাম। কারণ পন্টুন সমস্যা, ডুবোচর কিংবা নদীর তীব্র স্রোত যেকোনো একটি সমস্যা হলেই ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তখন ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয় হাজারও মানুষকে। এতে মাত্র দুই মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা, এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকে।
স্থানীয়রা জানান, ফেরি চালু থাকে ভোর ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। এই সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার যানবাহন ফেরি দিয়ে পারাপার হয়। তবে রাতের বাকি সময় ফেরি বন্ধ থাকায় দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। ফেরিতে একবারে পাঁচ থেকে আটটি ট্রাক বা বাস এবং ১৫ থেকে ২০টি ছোট যানবাহন ওঠানো যায়। একবার পারাপারে সময় লাগে প্রায় আধ ঘণ্টা, কখনো কখনো এক ঘণ্টারও বেশি।
গাড়িচালক রহিম উদ্দিন বলেন, আমি প্রতিদিন ট্রাক নিয়ে ইট আনা-নেওয়া করি। রাইখালী থেকে ইট ফেরিঘাটে এলে কখনো সঙ্গে সঙ্গে ফেরির লাইন পাই, আবার কখনো ঘণ্টাখানেকও অপেক্ষা করতে হয়। অথচ একটি সেতু হলে আমরা দুই-তিন মিনিটেই পার হয়ে যেতে পারতাম।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, ইতিমধ্যে সেতুর চূড়ান্ত নকশা প্রণয়ন করে প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। গত ৯ মার্চ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে প্রকল্প যাচাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় কর্ণফুলী নদীর ওপর চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাটে ক্যাবল-স্টেইড সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এটি হবে বাংলাদেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেইড সেতু।
এ ধরনের সেতু আধুনিক প্রকৌশল প্রযুক্তিতে নির্মিত হয়, যেখানে সেতুর রাস্তার ওজন সরাসরি মূল টাওয়ার বা পিলারের সাথে যুক্ত তির্যক তারের মাধ্যমে সমর্থিত থাকে। এতে টাওয়ারগুলো উল্লম্ব চাপের মাধ্যমে তারের ভার ভিত্তিমূলে স্থানান্তর করে।
তিনি আরও বলেন, এই সেতু নির্মিত হলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার পর্যটনশিল্পের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে। পাশাপাশি যানবাহন ও মালামাল পরিবহনের জন্য একটি নিরাপদ, টেকসই এবং নির্ভরযোগ্য পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।
মাসুম/সাএ
!function(f,b,e,v,n,t,s)
{if(f.fbq)return;n=f.fbq=function(){n.callMethod?
n.callMethod.apply(n,arguments):n.queue.push(arguments)};
if(!f._fbq)f._fbq=n;n.push=n;n.loaded=!0;n.version=’2.0′;
n.queue=[];t=b.createElement(e);t.async=!0;
t.src=v;s=b.getElementsByTagName(e)[0];
s.parentNode.insertBefore(t,s)}(window,document,’script’,
‘
fbq(‘init’, ‘481304049944631’);
fbq(‘track’, ‘PageView’);