শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন আর নেই ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ডেঙ্গুতে ২৪ ঘন্টায় ৮ জনের মৃত্যু বিকাশ, রবিসহ অনুমোদন পেল চার ডিজিটাল ব্যাংক অডিও ভাইরাল হওয়া ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি গ্রেপ্তার শিক্ষার মানোন্নয়নে ছাড় নয়, কঠোর অবস্থানে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী খলিলুর রহমা‌নের সঙ্গে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক জাতিসংঘের সভাপতির কার্যালয়ে নিয়োগ পেলেন জাইমা রহমান এমপি নজরুল ফের ৪ দিনের রিমান্ডে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব রাজধানীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নিহত বগুড়ায় ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ২ ‘গঙ্গা পানিবণ্টনে নতুন চুক্তির দাবি বাংলাদেশের’ এবার বাড়লো লঞ্চভাড়াও | Amar Bangla BANGLADESH জাতিসংঘে প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হামের উপসর্গে ২৪ ঘন্টায় আরও ১১ জনের মৃত্যু বিদ্যুৎ খাতে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক দেশের কোনো শিশুই শিক্ষার বাইরে থাকবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

মামলার তথ্য গোপন করে রাকাবের এমডি, নিয়োগ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে রুল

সীমু দা
বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৫৪ পূর্বাহ্ন

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহিদা বেগমকে নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। আদালত অবমাননাসহ নিয়মনীতি অমান্যের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। আর্থিক অনিয়মের দায়ে তাকে কারাদণ্ড দেন উচ্চ আদালত। পরে সে তথ্য গোপন করে পদোন্নতি পান। আরও অভিযোগ উঠেছে, রাকাবে আওয়ামীপন্থিদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় তার অপসারণ ও শাস্তি চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়েছে। এই রিটের পক্ষে রুল জারি করেছেন উচ্চ আদালত।

ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ সূত্রে জানা যায়, পদোন্নতি পেয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ওয়াহিদা বেগম রাকাবে বদলি হয়ে আসেন। তার আগে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসিতে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ ছিল। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি ওয়াহিদা বেগমসহ অগ্রণী ব্যাংকের চার কর্মকর্তাকে আদেশ অমান্য করার দায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন উচ্চ আদালত। কিন্তু সেই তথ্য গোপন করে কৌশলে রাকাবে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন ওয়াহিদা বেগম।

রাকাবে তার এই নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করে গত ১৮ নভেম্বর উচ্চ আদালতে রিট হয়েছে। এ নিয়োগ কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে পরে রুল জারি করেন উচ্চ আদালত। আদালতের নির্দেশে জানানো হয়, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কর্তৃক জারি করা বিতর্কিত নিয়োগ পত্র নং ৫৩.০০.০০০০.৩১২.১২.০০৪.২০-৯২ তারিখ: ২৭.০২.২০২৫ এর মাধ্যমে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে ওয়াহিদা বেগমকে নিয়োগ প্রদান করা হয় যা বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের (বিআরপিডি) ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখের সার্কুলার নং-০৫ ব্যাংক-কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ/নিযুক্তি এবং তার দায়-দায়িত্ব সম্পর্কিত নীতিমালার শর্তাবলি অনুসরণ না করে করা হয়েছে, তা আইনগত ক্ষমতা ছাড়া করা বলে ঘোষণা করা না হওয়ার কারণ ৩ সপ্তাহের মধ্যে দর্শানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।’

এর আগে গত ২২ অক্টোবর রাকাবের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুল মালেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর এমডির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। তাতে এমডির বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। একইসঙ্গে এমডিকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং আওয়ামী স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত অপসারণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ওয়াহিদা বেগমের জন্ম নোয়াখালীতে। সেই সুবাদে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল তার। অগ্রণী ব্যাংকে দায়িত্বপালনকালে তিনি সেখানকার বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা ছিলেন। আরও আগে রূপালী ব্যাংকে দায়িত্বপালনকালে সেখানকার বঙ্গবন্ধু পরিষদেরও উপদেষ্টা ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে- জুলাই আন্দোলন দমনে ঢাকা দক্ষিণ সিটির সেই সময়কার মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকে মোটা অঙ্কের অর্থ জোগান দেন।

রাকাবে যোগদানের পর তিনি ব্যাংকের আওয়ামীপন্থিদের পুনর্বাসন করছেন। রাকাবে তার নির্দেশে আওয়ামী দোসর কর্তৃক ৩৬-শে জুলাই বীর শহীদদের ছবি সংবলিত ব্যানার ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির ব্যানার ছিঁড়ে পদদলিত করে শহীদদের প্রতি অবমাননা ও অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে বিএনপি মহানগর কর্তৃক প্রতিবাদ সভা হয়। বিএনপি মহানগর কর্তৃক ব্যাংক ব্যবস্থাপনা বরাবর স্মারকলিপি দাখিলের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের দাবি জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। রাকাবে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট দোসরদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি সংগঠিত করছেন। ব্যাংকের ভেতর নিজ মতাদর্শের দলীয়করণ, সুবিধাজনক স্থানে পছন্দমতো পদায়ন, মতবিরোধীদের যত্রতত্র নির্বাসন এবং প্রশাসনিক ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে ভীতিকর কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। ফলে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

এ ছাড়া আওয়ামী তোষণ করে পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়া ওয়াহিদা বেগমের বিরুদ্ধে রয়েছে অদক্ষতা এবং ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগও আছে। অভিযোগ রয়েছে, ওয়াহিদা বেগম অগ্রণী ব্যাংকে কর্মরত থাকা অবস্থায় ঘুষ দিয়ে পদোন্নতি এবং বদলি বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন।

ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ২০২৪ সালের এক প্রমোশনে ৪০ জন কর্মকর্তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ আদায় করেন ওয়াহিদা। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে করপোরেট গ্যারান্টি ছাড়া ঋণ অনুমোদন, সিন্ডিকেট চালানো এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ ও প্রমোশন বাণিজ্য চালানোর অভিযোগ আছে। তার আর্থিক লেনদেনের চেকের ফটোকপি, বিকাশ/নগদ লেনদেন রেকর্ড, এমনকি অডিও ক্লিপ, যা থেকে স্পষ্ট হয় ঘুষের বিনিময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে দুদকে একাধিক অভিযোগ জমা পড়লেও দলীয় প্রভাবে শাস্তি এড়িয়ে গেছেন। ওয়াহিদা বেগম মাত্র ছয় মাস রূপালী ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে অদক্ষতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে অগ্রণী ব্যাংকে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে নিয়োগে নিয়ে চমক সৃষ্টি করেন। পূর্বের কোনও উল্লেখযোগ্য সাফল্য না থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের বিশেষ একটি মহলের পৃষ্ঠপোষকতায় ওই উচ্চপদে যান তিনি।

অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ওয়াহিদা বেগমের পেশাগত দক্ষতা নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন ছিল। কিন্তু আওয়ামী রাজনৈতিক প্রভাব এবং লবিংয়ের মাধ্যমে তিনি একের পর এক পদোন্নতি পান। তিনি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে যোগদানের পর থেকে ব্যাংকে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন করে সিন্ডিকেট ও বদলি বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তার এই নিয়োগ বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা লঙ্ঘন করে হয়েছে। নীতিমালার অনুচ্ছেদ-২ এ ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ বা পুনঃনিয়োগের জন্য যোগ্যতা ও উপযুক্ততা নির্ধারণ করা রয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, কোনো ফৌজদারি আদালত কর্তৃক দণ্ডিত নন কিংবা জাল-জালিয়াতি, আর্থিক অপরাধ বা অন্যবিধ অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বা জড়িত নন কিংবা কোনও দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলায় আদালতের রায়ে কোনও বিরূপ পর্যবেক্ষণ বা মন্তব্য নেই এমন ব্যক্তি নিয়োগের জন্য বিবেচিত হবেন। কিন্তু ওয়াহিদা বেগম নিজের ঘোষণাপত্রেও মামলা সংক্রান্ত তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দাখিল করে পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়েছেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহিদা বেগম বলেন, ‘ওই মামলাটি অনেক পুরাতন। এটা আমার বিরুদ্ধে ছিল না। ব্যাংকের পদের বিরুদ্ধে ছিল। এটি এখন বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। আমি এর বাইরে কিছু জানি না। আমি কোনও তথ্য গোপন করিনি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Theme Created By